সেই সময় নানা একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নানা পাটেকার। কিন্তু এক রাতে টেলিভিশনে দেখা একটি ঘটনা তার জীবনের উদ্দেশ্যই যেন বদলে দেয়। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেছিলেন, ‘নতুন একটি গাড়ি কেনার জন্য আমি দেড় কোটি রুপি জমিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় টেলিভিশন দেখছিলাম। সেখানে আত্মহত্যা করা এক কৃষকের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার প্রচার করা হচ্ছিল। মৃত ব্যক্তির জন্য তাদের শোকের চেয়েও বেশি করে আমি অনুভব করতে পারছিলাম তাদের অনাহার। তাদের চোখেই সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।’সেই দৃশ্য এবং ওই পরিবারের মানুষের কষ্ট নানা পাটেকারকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তখন তিনি যে জীবনযাপন করছিলেন, তা ছিল ওই মানুষগুলোর জীবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ। হঠাৎ নিজের অভ্যস্ত বিলাসিতা তার কাছে অর্থহীন মনে হতে থাকে।

নানা পাটেকার সেই স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, ‘ওই দৃশ্য আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। আমি ভাবতে শুরু করলাম—এই গাড়ি আমার কেন দরকার? আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ১ হাজার কৃষককে ১৫ হাজার রুপি করে দেব। কিন্তু আমার এক বন্ধু পরামর্শ দিল, চেক বিতরণের আগে যেসব নারী তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন, তাদের সঙ্গে যেন আমি দেখা করি। সেই অভিজ্ঞতাই আমার জীবন বদলে দেয়।’
এই অভিজ্ঞতার পর অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে মিলে নানা শুরু করেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’। খুব দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন, একজন কৃষককে ১৫ হাজার রুপির একটি চেক ধরিয়ে দিলেই তাদের বা তাদের পরিবারের বড় সমস্যাগুলোর সমাধান হবে না। কয়েকটি পরিবারকে সাহায্য করার একটি ছোট উদ্যোগ ধীরে ধীরে রূপ নেয় বড় এক সামাজিক আন্দোলনে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে ফাউন্ডেশনটি ৬০ কোটি রুপি সংগ্রহ করে।
কৃষকের পাশের মানুষ ভারতীয় চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকার আজ বৃহস্পতিবার ( ৮ অক্টোর) ভোরে মারা গেছেন ভারতের গোয়ার একটি হাসপাতালে।






