Spread the love

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় প্রোটিন রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও বাহারী এগ্রোটেকের যৌথ উদ্যোগে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাটন পদ্ধতিতে মাশরুম চাষে সফলতা অর্জন করেছে কৃষকরা।

দেশে এই প্রথমবারের মত বীজ থেকে প্রাকৃতিক শীতল পরিবেশে বাটন মাশরুম উৎপাদনে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে কৃষকরা। প্রোটিন রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও বাহারী এগ্রোটেকের যৌথ উদ্যোগে দেশেই বীজ, কম্পোস্ট এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে বাটন মাশরুম উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

 

প্রোটিনা রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদা ইসলাম জানান, সফলভাবে মাশরুম চাষের লক্ষ্যে আগ্রহী কৃষকদের বীজ উৎপাদন, কম্পোস্ট সার তৈরি, বাটন মাশরুম চাষ পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ, বাজারের চাহিদা এবং বাজারজাতকরণের বিষয়ে অবহিত করা হয়।

তিনি বলেন, আমরা দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে নিজেদের উদ্যোগে বাটন মাশরুমের বীজ প্রস্তুত করতে ল্যাবরেটরী তেরীর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পরবর্তীতে কম্পোস্ট তৈরির মাধ্যমে ছোট পরিসরে বাটন মাশরুম চাষে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতে এই মাশরুম চাষ এলাকায় আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড.এ কে ওবায়দুল হক মাশরুমের পুষ্টি ও গুণগত মান সম্পর্কে বলেন, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মাশরুমে রয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৭৫ গ্রাম প্রোটিন, ২ দশমিক ৫ গ্রাম শর্করা ০ দশমিক ৫ গ্রাম চর্বিসহ উল্লেখ যোগ্য পরিমাণে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও অন্যান্য মিনারেল আছে। দৈনিক খাদ্য তালিকায় এই মাশরুম থাকলে দেহের বৃদ্ধি, গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

চিকিৎসকদের মতে, এই মাশরুম এন্টি ডায়াবেটিক, এন্টি ক্যানসার, এন্টি হাইপারটেনশন ও এন্টি ইনফ্লামেশন হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাস্থ্যঝুঁকি মুক্ত রাখার লক্ষ্যে খাদ্যের সাথে মাশরুম উপকারী উপাদান। তারা রোগ প্রতিরোধে দৈনিক খাদ্য তালিকায় মাশরুম রাখার পরামর্শ দেন।

বাহারী এগ্রোটেকের পার্টনার প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান জানান, প্রতি বছর ভারত ও থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বাটন মাশরুম ও বীজ আমদানি করা হয়। যার মূল্যমান শত কোটি টাকার বেশি। তিনি বলেন, সঠিক পরিচর্যা করলে দেশীয় কাঁচামাল দিয়ে চাষকৃত মাশরুম দেশের চাহিদা মিটিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

(বাসস)