
দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে ফিলিপাইনের জনপ্রিয় জাতের কালো আখ বা ‘ব্ল্যাক সুগারকেইন’ (Black Sugarcane)। প্রচলিত আখের তুলনায় এর ফলন বেশি, বাজারমূল্য আকর্ষণীয় এবং রোগবালাই কম হওয়ায় গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলায় এই জাতের আখ চাষে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটে গেছে।
কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে গাঢ় বেগুনি ও কালচে-খয়েরি রঙের দৃষ্টিনন্দন এই কালো আখ। দেখতে আকর্ষণীয় এবং অত্যন্ত রসালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) এই জাতটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়ে ‘বিএসআরআই আখ ৪৯’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রচলিত দেশি আখের চেয়ে এই আখের কাণ্ড অনেক বেশি নরম, মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় সাধারণ মানুষ চিবিয়ে খাওয়ার জন্য এটি বেশ লুফে নিচ্ছেন।
কালিয়াকৈর এলাকার সফল উদ্যোক্তা ও চাষিরা জানান, গতানুগতিক আখ চাষে যখন লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এই বিদেশি জাতটি তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপণ করায় বিঘাপ্রতি সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র ৮ থেকে ১০ মাসের মধ্যেই গাছগুলো ১৩ থেকে ১৫ ফুট লম্বা হয়ে বাজারজাত করার উপযোগী হয়।
চাষিরা আরও জানান, একবার এই আখের চারা রোপণ করলে পরবর্তী তিন বছর নতুন করে চারা লাগানোর প্রয়োজন হয় না। কেটে ফেলা গোড়া থেকেই নতুন চারা গজায়, যা উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করা সম্ভব হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্ল্যাক সুগারকেইন চাষে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এই জাতের আখের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় কীটনাশকের ব্যবহারও কম হয়।
গাজীপুরের এই সফলতার পর দেশের অন্যান্য জেলার কৃষকরাও এখন ‘ব্ল্যাক সুগারকেইন’ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কৃষিবিদদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এই আখের আরও বিস্তার ঘটানো গেলে দেশের চিনির চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এটি অনন্য ভূমিকা রাখবে।




