
ভরা মৌসুমেও বরগুনার মাছের বাজারগুলোতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। বঙ্গোপসাগর ও নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে শূন্য হাতেই ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় বরফকলগুলোতে উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ইলিশের আকালের পাশাপাশি তীব্র বরফ সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বরগুনার মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

ভরা মৌসুমে দেশের অন্যতম বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটাসহ বরগুনার স্থানীয় বাজারগুলোতে যেখানে রূপালী ইলিশের হাঁকডাকে মুখরিত থাকার কথা, সেখানে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা। পাথরঘাটা ঘাটে ট্রলারের পর ট্রলার নোঙর করা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই। বাজারে গুটি কয়েক যা-ও পাওয়া যাচ্ছে, অতিরিক্ত দামের কারণে তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

পরিসংখ্যানও বলছে একই কথা। গত বছর ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ২৭০ মেট্রিক টন ইলিশ বিক্রি হয়েছিল। অথচ চলতি বছরের একই সময়ে বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮০ মেট্রিক টনে। জেলাজুড়ে অন্য বাজারগুলোর চিত্রও একই।

ইলিশের এই আকালের মধ্যেই বরগুনার মৎস্য খাতে নতুন ধাক্কা হয়ে এসেছে তীব্র লোডশেডিং। দিন-রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বরফকলগুলোর উৎপাদন নেমে এসেছে তলানিতে। স্বাভাবিক সময়ে বরফ তৈরিতে ১৮ থেকে ৩৬ ঘণ্টা লাগলেও, লোডশেডিংয়ের কারণে এখন দ্বিগুণেরও বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে। সাগরে যাওয়ার পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় ঘাটেই আটকে আছে বহু ট্রলার, যা জেলে ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি দিন দিন বাড়াচ্ছে। সাগরে যাওয়া জেলেরা বা যারা বাজারে ইলিশ মাছ বিক্রী করেন তাদের সবার এক কথা যে এবার ইলিশ ধরা পড়ছে গত বছরের তুলনায় অনেক কম ।
নানা কারণে জেলেরা এবার কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছে না। তবে বরফ সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ এবং দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টার কথা জানিয়েছেন বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন । তিনি বলেন “ ইলিশ তো কম পাওয়া যাচ্ছে , সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে । আর এখন লোডশেডিং একটু কমে এসেছে। আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে কথা বলেছি। এমনকি শুধু বরফকলগুলোর জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায় কি না তা নিয়ে আলোচনায় তারা আমাদের আশ্বস্থ করেছেন। “




