” জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য “ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। কিন্তু কিভাবে নিশ্চিত হবে খাবারের নিরাপদতা ? বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, আমাদের সবচেয়ে সামনে আছে এই দায়িত্ব পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে । কিন্তু এটা বলতে কোনো দ্বিথা নাই যে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর এক দশক পার করেও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA)-এর দৃশ্যমান সফলতা বেশ সীমিত ।

খাদ্য ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা থাকলেও বিএফএসএ-এর দুর্বল তদারকি, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি সফল হতে পারেনি । শুধু অপবাদ দেয়াই আমাদের উদ্দেশ্য নয় । নাগরিক সমাজের অনেকে বা অনেক স্বেচ্ছাসেবি প্রতিষ্ঠান,যেমন কনজিউমার এসোসিয়েশন বা বিসেফ ফাউন্ডেশনের মত অনেক সংগঠন সরাসরি কাজ করছে নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষের সাথে। কিন্তু তারপরও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাজের মূল্যায়ন:করতে হলে আমাদের কতগুলো বিষয়কে সামনে আনতেই হবে। কারন আমরা চাই নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ সফল হোক। ভেজাল খাদ্য তৈরি করে যারা,যাদের কারনে মানুষের খাবার দূষিত হয়ে পড়ে বা যারা খাবারের নিরাপদতার চেয়ে মুনাফাকেই একমাত্র লক্ষ্য মনে করে তাদের কাছে এখনো “ আতংক “ হয়ে উঠতে পারেনি এই কতৃপক্ষ।
মোটা দাগে আমরা চারটি বিষয়কে সামনে আনতে চাই । এই চারটি বিষয় হচ্ছে ১. কতৃপক্ষে সীমিত কার্যকারিতা ২. সমন্বয়হীনতা ৩. বাজার তদারকি এবং ৪. সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ।

খাদ্য নিরাপত্তা আইনের আওতায় বিভিন্ন বিধিমালা থাকলেও সেসব প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও অপর্যাপ্ত জনবলের কারণে ভেজ্ল খাদ্য উৎপাদন বা খাদ্য দূষনের বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে । নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে । কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার পরিদর্শন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ । তবে, রাজধানীর ফুটপাত ও সাধারণ দোকানগুলোতে এখনো ব্যাপক অনিরাপদ খাবার বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। মনে হয়না এসব দেখার কোনো কতৃপক্ষ আদৌ কোনো দায়িত্ব পালন করছে । নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের নিরাপদ চাষাবাদে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক । কিন্তু এসব কাযর্ক্রম এতটাই অদৃশ্যমান যে তাতে করে মনে হয়না আরো দশবছরেও দেশের নাগরিকরা বুঝতে পারবে যে তাদের জন্য আইন দ্বারা গঠিত নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ বলে একটি প্রতিষ্ঠান আছে।
উপসংহারে বলা যায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর থেকে খাদ্য নিরাপদ করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করলেও ভেজাল নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য “সফলতা” অর্জন করতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে । জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালনের সময় শুধু কতৃপক্ষই নয় , বরং দেশের মানুষ,সংশ্লিষ্ট সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজ ও গনমাধ্যম খাদ্যের নিরাপদতায় আরো সোচ্চার হবে ,সেটাই দিবস পালনের প্রধান অংগীকার হোক ।



