
ইলিশের কথা উঠলেই বরগুনার মানুষ বলবে দেশের সেরা বিষখালির ইলিশ স্বাদে সেরা। পদ্মার ইলিশের স্বাদে অভ্যস্ত অনেকেই তা মানতে চাননা। তাই পরিকল্পনা ছিল আষাঢ়ের শেষে যাবো বরগুনায় বিষখালির ইলিশের খোঁজে । কিন্ত এর মধ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার খবর চোখে পড়লো “ ইলিশের মৌসুমে জেলেদের জালে ইলিশ নেই ”

বরগুনা থেকে বাসসের প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান লিখেছেন “ প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জেলার নদী ও সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও এ বছরের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। মৌসুম শুরু হলেও আশানুরূপ ইলিশের দেখা না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে উপকূলীয় জেলা বরগুনার কয়েক হাজার জেলের। নদী ও সাগরে জাল ফেলেও মাছ না পাওয়ায় দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছেন জেলেরা। ফলে বরগুনা জেলা শহরের মৎস্য বাজার ও আড়তগুলোতে ইলিশ মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। “ বরগুনার ইলিশ সরাসরি ঢাকায় আসে কি না বলা না গেলেও এখন যে ভরা মৌসুমে ঢাকার বাজারেও ইলিশের আমদানি কম তা বলাই যায় । এবার বর্ষাকালে বৃষ্টির দেখাও মিলছে কম । প্রচন্ড গরমে মানুষ খিচুড়ি খাচ্ছে না তাই কি ইলিশের চাহিদা কম নাকি অত্যধিক দামে বাঙালি ভুলতে বসেছে ইলিশের স্বাদ।

বাসসের খবরেই জানা গেলো বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী এলাকার অধিকাংশ জেলে শত শত ট্রলার প্রতিদিনই যায় গভীর সমুদ্রে। কিন্তু কাঙ্খিত পরিমাণ ইলিশ না পেয়ে তারা একদিকে যেমন হতাশ হয়ে ফিরছেন তেমনি জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন খাতের খরচ মিটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলেদের। পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি এলাকার জেলে আবুল কালাম জানয়েছেন, গত ২-৩ বছর আগে সাগরে যে পরিমাণ ইলিশ পেয়েছি, এখন আর সেই পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না । আবার আগের তুলনায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এক ট্রিপে বিভিন্ন খরচ মিটিয়ে লাভ তো হয়ই না, আরো লোকসানে পড়তে হয়।বরগুনা সদর উপজেলার ডাল ভাঙ্গা এলাকার জেলে লোকমান হোসেন বলেন, মাছের আশায় ট্রলার নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আশানুরূপ ইলিশ মাছ না পেয়ে ৪ দিন পরে ফিরে এসেছি। আয় না হওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি। এসব কথায় বোঝা যায় ইলিশ ধরে জীবন চালাতে কষ্ট হচ্ছে জেলেদের । ইলশের মৌসুম শুরু হলে আবার সরকারের খাদ্য সহায়তা বন্ধ হয়ে যায় ।

জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বাসস’কে বলেন, সাগর থেকে ফেরা জেলেরা আমাকে জানিয়েছে কিছু অসাধু জেলে ট্রলিং ট্রলারে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে গভীর সাগরে মাছ ধরছে প্রতিনিয়ত। আর এতে বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছসহ ইলিশ মাছের সংকট দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ইলিশ প্রজনন,সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাঞ্জাকালীন সময় সুবিধাভোগী জেলেরা সরকারি প্রণোদনা পান। বরগুনায় সরকারি প্রণোদনার আওতায় ২৭ হাজার জেলে রয়েছেন। এরমধ্যে ২৬ হাজার জেলে প্রণোদনা পেয়ে থাকেন। আর প্রণোদনা পেয়ে জেলেরা ওই সময়ে কোনো মতে সংসার চালান। তবে প্রণোদনার বাহিরেও অনেক জেলে রয়েছেন এবং অনেক জেলের নিবন্ধনের তালিকায় নাম নেই। যারা এখনো নিবন্ধিত হতে পারেনি, তারা মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারের এই প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হন।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বেসরকারিভাবে অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার হবে। আর নিবন্ধিত নারী জেলে রয়েছেন ৬৪০ জন।জেলেরা বলেন, সরকার এ দুর্যোগকালীন সময়ে যদি ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের বিশেষ প্রণোদনা দেয় ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে, তাহলে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আমরা সাগরে গিয়ে যদি পর্যাপ্ত মাছ পাই তাহলে আমরা আমাদের ঋণ শোধ করতে পারবো এবং সংসারেও স্বচ্ছলতা ফিরবে। বাসসের বরগুনা জেলা প্রতিনিধি লিখেছেন “ সরেজমিনে আজ সকালে বরগুনা মাছ বাজরে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা রফিকুল ইসলাম মাঝারি সাইজের ইলিশ ক্রয় করেছেন ৯শ’ টাকায়। তিনি জানান, মাছের দাম আগের তুলনায় একটু বেশি। বাজারে ইলিশের আমদানি কম। “

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে খরচ হয় প্রায় এক লাখ টাকা। বর্তমান সময়ে ইলিশ না পাওয়ায় ধারদেনা করে এক ট্রিপ দিলেও ঋণের টাকা শোধ করা নিয়েই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। জলবায়ু পরিবর্তনে আবহাওয়ার বৈরিতা, নদীর নাব্যতা সংকট এবং সাগরে মাছের বিচরণক্ষেত্রের পরিবর্তনের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।
পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বাসস’কে বলেন, গত রোববার থেকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে শতশত ট্রলার নিয়ে জেলেরা এখন নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছে। জেলে ও ট্রলার মালিকদের জীবন সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে জেলেরা আবার সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারবেন।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বাসস’কে বলেন, জেলায় ৪৮ হাজার ৬ শত নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। জাটকা নিধন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের মৎস্য বিভাগ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বেশিরভাগ সময় গতবাধা কথা বলেন। আমরা বরং জানতে চাই যে আসলে সাগরে কি ইলিশের প্রজনন কমছে ,নাবি ডুবোচরের কারনে বা অন্য কোনো কারনে সাগর লাগোয়া নদীতে আসছে না ইলিশ। আর সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বাড়লো নাকি ইলিশ ধরার খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে দাম আর বাঙালি বাধ্য হচ্ছে ইলিশের খাওয়া কমাতে !
ক্ষেতেপাতে ডেস্ক প্রতিবেদন





