
আমনের পর এবার পতিত জমিতে আউশ ধানের ভালো আবাদ করে বছরে দুই ফসলের স্বপ্ন দেখছেন সুনামগঞ্জের হাওড় এলাকার ধান চাষীরা। জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার ধনপুর গ্রামে একসময় আমন ধান কাটার পর বছরের দীর্ঘ সময়জুড়ে পতিত পড়ে থাকত বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এবার সেই চিত্র বদলানোর চেষ্টা করছেন এলাকার কৃষকরা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরামর্শ ও এলএসটিডি প্রকল্পের সহায়তায় আমনের পর পরীক্ষামূলকভাবে আউশ ধানের চাষ শুরু হয়েছে।কয়েক মাস আগে বন্যার পর যেসব জমি পতিত ছিল,কোনো কিছুই যেখানে ফলতো না সেইসব মাঠজুড়ে এখন সবুজ ধানের সমারোহ। দুচোখ জুড়িয়ে যাওয়া নিজের পরিশ্রমের ফল পেয়ে এখন বছরে দুই ধান ফলানোর স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

একসময় অগ্রহায়ণে আমন ধান কাটার পর বছরের দীর্ঘ সময়জুড়ে পতিত পড়ে থাকত শান্তিগঞ্জের শিমুলবাক ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। চারদিকে পানি থাকায় আমনের পর এসব জমিতে অন্য কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হতো না। ফলে বছরের একটি বড় সময় অলস পড়ে থাকত কৃষিজমি। তবে এবার বদলেছে সেই চিত্র। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রির সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরামর্শ এবং এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ একর জমিতে আউশ ধানের চাষ শুরু করেছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। ফসলের অবস্থা ভালো হওয়ায় আশাবাদী কৃষকরা।

এই কৃষকরা বলছেন , যে সময়টা বেকার থাকতাম, এবার সেই সময় আউশ করতে পেরেছি । অগ্রায়ন মাসে ধানের পর বেকার সময় পার করে এখন বেকার না থেকে নতুন ধান চাষ করে ভালো ফলন পাবো বলে আশা করছি। খালি জায়গায় ধান চাষ করতে পেরে লাভের আশায় বুক বাধঁছেন এলাকার চাষীরা। বোরো ধানের পর আউশ চাষ করে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন কৃষি র্কমর্কতারাও।

এবার অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতি পোষিয়ে নিতে এমন ধানের আবাদ চাষীদের আর্থিকভাবে লাভবান করবে বলে আশা করছেন দায়িত্বশীলরা।ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের এলএসটিডি কর্মসূচীর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন পরীক্ষামুলকভাবে সুনামগঞ্জ এলাকায় আউশ ধান চাষের আবাদ শুরু করা হয়েছে এলাকার উপযোগী ধানের জাত তৈরির উদ্দেশ্যে । এরই মধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের রোপা আউশের ১৮ জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। গত বোরো আগাম বৃষ্টি ও মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পতিত জমিতে আউশের চাষ বাড়ানোই মূল লক্ষ,যাতে কৃষকরা উপকৃত হতে পারে।

পরীক্ষামূলক এই আবাদ সফল হলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে আউশ ধানের চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে কৃষকদের। আর এতে পতিত জমি ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়বে কৃষকের আয় ও খাদ্য উৎপাদন-এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার কৃষক ও ধান গবেষকদের।।




