
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাগরে আবার ইলিশের দেখা মিলছে। জেলের জালে ধরা পড়ছে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। জেলেদের মনে আবার নতুন আশা জেগেছে।কিছুদিন আগেও পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। জেলেদের জালে মাছ মিলছিল না। সাগরে ইলিশের তীব্র খরা দেখা দিয়েছিল। ট্রলারের জ্বালানি খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তবে, আজ শনিবার (৮ আগস্ট) জানা গেছে, সাগরে আবার মাছ ধরা পড়ছে। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর সাগরে ‘এফবি জুনাইদ’ নামের এক ট্রলারের জালেই ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। প্রায় ২,২০০ পিস ইলিশ বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৪৮ লাখ টাকায়।
নিরাক পরা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ করে পটুয়াখালীর মহিপুর ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের মৎস্যবন্দরগুলোতে আবার হাঁকডাক ফিরে এসেছে। বাজারে এখন বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বেশ ভালো। ১ কেজি বা তার চেয়ে বড় আকারের ইলিশ ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে।
আড়ত সূত্রে জানা গেছে, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ২,৮৭৫ টাকা) দরে বিক্রি হয়ে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা হারে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছিলাম। একবার জাল ফেলতেই প্রায় দুই হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।
মৎস্য কর্মকর্তা ও গবেষকদের মতে, সামনে বৃষ্টিপাত বাড়লে সাগরে ইলিশের সংখ্যা আরও বাড়বে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ইলিশের ঝাঁক দ্রুত নদীর দিকে চলে আসবে। প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ঠিকভাবে মানায় বড় আকারের ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
সাগরের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে জেলেরা আরও লাভবান হবেন এবং বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে।





