
দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি আমন মৌসুমে এ বছর ১ কোটি ৮১ লাখ মেট্রিক টনের বেশি চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই লক্ষ্য অর্জনে উচ্চফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড জাতের প্রসার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ-সার প্রণোদনা এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ভাসমান বীজতলা তৈরির মতো সমন্বিত কৌশল নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমন কাটার পর সরিষা বা রবি ফসল চাষের সুবিধার্থে ব্রি ধান৭৫, ব্রি ধান৮৭ ও বিনা-১৭-এর মতো স্বল্পমেয়াদি জাত ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তবে সরকারি এসব উদ্যোগের বিপরীতে মাঠ পর্যায়ে বেশ কিছু জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপদাহ কিংবা হঠাৎ বন্যায় চারা রোপণ ব্যাহত হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে সার, কীটনাশক, ডিজেল ও সেচের বিদ্যুতের বাড়তি খরচ। আবার মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট ও চড়া মজুরি সার্বিক উৎপাদন ব্যয় একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। মানহীন বীজের ঝুঁকি এবং ধান তোলার পর ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপটে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, আমন উৎপাদনের এই ধারাক্রম ও খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে জরুরি সম্পূরক সেচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যান্ত্রিকীকরণের আওতা বাড়ানো, জলবায়ু-সহনশীল জাতের বীজ সহজলভ্য করা এবং মৌসুমের শুরুতেই প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি নির্ধারিত দামে ধান ক্রয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।





