Spread the love

চলতি বছর মৌসুমে ‘লিচুর রাজ্য’ খ্যাত দিনাজপুরে লিচু বাগানের গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। গতবছর নতুন পাতা বেশি ও মুকুল কম এলেও এবার মুকুল বেশি দেখা যাচ্ছে।

সোমবার দিনাজপুর সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন বিভিন্ন উপজেলার লিচু বাগান এলাকা গুলো ঘুরে লিচুগাছে মনোরম পরিবেশে মুকুল শোভা পেতে দেখা গেছে।

দিনাজপুর হটিকালচার বিভাগের লিচু নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত কৃষিবিদ রায়হান ফরিদ বলেছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকে লিচু গাছে মুকুল আসা শুরু হয়। তবে লিচু উৎপাদন নিয়ে এবার সংশয় নেই।

লিচু চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয় দিনাজপুরের বেদানাসহ বিভিন্ন জাতের রসালো লিচু। লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় প্রতি বছরই এই জেলাতে লিচু চাষ বেড়েই চলছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলেছে, গতবছর দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছিল। তবে এবার এখনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে কাজ চলছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বাসস’কে বলেন, দিনাজপুরের লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার লিচুর ফলন ভালো পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এবার বৃষ্টিপাত নেই। তবে হালকা ও মাঝারি শীত ছিল। শীতে লিচুর মুকুলে কোন প্রভাব ফেলে না। এবার লিচুর মুকুল আসা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন মৌ পালন ও মধু উৎপাদনকারী রাকিবুল হাসান।

তিনি বলেন, গতবছর বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ভিদের শাখার অগ্রভাগে কার্বনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় নতুন পাতা বেশি দেখা দিয়েছিল। প্রতিটি বাগানে কমবেশি গাছ নতুন পাতায় ছেয়ে গিয়েছিল। এবার নতুন পাতার পরিমাণ খুবই কম। এবার সঠিক সময়ে লিচুর মুকুল আসতে শুরু করেছে। আশা করছি এবার বোম্বাই, কাঁঠালি ও মাদ্রাজি লিচুর উৎপাদন বেড়ে যাবে।

রাকিব হাসান বলেন, ‘আমি অনেক বাগানে ঘুরেছি। প্রায় বাগানে লিচুগাছে মুকুল দেখতে পেয়েছি। এখন পর্যন্ত প্রায় সব লিচুর গাছে মুকুল এসেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ গাছে মুকুল দৃশ্যমান হয়ে আসবে।’

দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, হাড়িয়া, বেদেনা, কাঁঠালি উল্লেখয্যেগ্য। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বোম্বাই লিচু। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুরের প্রতিটি বাড়ির বসতভিটায় বা আঙিনায় লিচুগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন বলেন, সবেমাত্র মুকুল আসা শুরু হয়েছে। তাই কতটুকু মুকুল আসবে আর কী পরিমাণ লিচু উৎপাদন হবে তা বলার সময় আসেনি।

তবে মুকুলের অনেক সমারোহ দেখা যাচ্ছে। এবারে ফলন ভালো হবে আশা করতে পারি। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগ বাগান মালিকদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি ব্যক্ত করেন।

(বাসস)