Spread the love

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ বছর চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু মজুদ থাকায় বিদেশ থেকে কোনো পশু আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। সরকারি তথ্যমতে, এ বছর কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর বিপরীতে সম্ভাব্য পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর মধ্যে  গরু ও মহিষ: ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি। ছাগল ও ভেড়া: ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি। এবং  অন্যান্য (উট, দুম্বা প্রভৃতি): ৫ হাজার ৬৫৫টি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, দেশীয় খামারিদের সক্ষমতা বাড়ায় এবারও সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরকার কোরবানির পশুর অবাধ যাতায়াত এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে কেনাবেচায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে অনলাইন প্লাটফর্মে পশু কেনাবেচাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অনলাইনে পশু কিনলে ক্রেতাকে কোনো ‘হাসিল’ বা খাজনা দিতে হবে না। পরিবহণ সুবিধার জন্য উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে পশু পরিবহনের জন্য রেলওয়ে বিশেষ ‘ক্যাটল ট্রেন’ পরিচালনা করবে।তাছাড়া   সারা দেশের ৩,৬৭৮টি পশুর হাটে বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে।

সরবরাহ সন্তোষজনক হলেও বাজারে কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে খামারি ও ক্রেতাদের মাঝে উদ্বেগ রয়েছে: খামারিদের মতে, দানাদার খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে।  পথে ঘাটে পশু পরিবহনকারী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, রাস্তায় কোনো পশু থামিয়ে চাঁদা নেওয়া যাবে না।  স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ইনজেকশন দিয়ে পশু মোটাতাজাকরণ রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের কোরবানির বাজারে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত পশুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে বাজার মনিটরিং এবং পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণের ওপর।