Spread the love

আষাঢ় মাস শুরু হয়েছে আর বাড়ছে ইলিশ মাছের চাহিদা । শুধু প্রশ্ন হচ্ছে ইলিশ কেন কম মিলছে,আর দামই বা এতো বেশি কেন? এমন প্রশ্নের জবাব না পেলেও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, ইলিশসম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করিার কথা। তিনি বলেছেনশুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রফতানির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে”।

গত সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে (বিএআরসি) অনুষ্ঠিত ‘ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, ‘ইলিশের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পানির গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পবর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ নদীতে নিঃসরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ ‘জাটকা নিধন, মা ইলিশ আহরণ ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। কারণ এগুলো ইলিশসহ দেশের বিভিন্ন দেশীয় মাছের জন্য মারাত্মক হুমকি।’ বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী ।

মৎস মন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় গবেষক, বিশেষজ্ঞ, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উপদেষ্টা দল গঠনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।’আমিন উর রশিদ বলেন, ‘অধিকাংশ জেলে দাদননির্ভর জীবনযাপন করেন। তাই তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্য তালিকায় ইলিশের অবস্থান সবার শীর্ষে। বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৭০-৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদন হয়। ফলে বাংলাদেশের ইলিশের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাই ইলিশকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে হবে।’

কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ।