
সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অনুমতি পাওয়ার পরপরই ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ি বেনাপোল , হিলি স্থল বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানির কারনে বাজারে এই অতি প্রয়োজনীয় সবজি শ্রেনির মশলাটির দাম কমতে শুরু করেছে । তবে বিতর্ক উঠেছে আমদানি মুল্যের সাথে বিক্রীর দাম নিয়ে । সরকারি হিসাবে প্রতি কেজি মরিচের আমদানি ব্যয় প্রায় ৭৮ টাকা। কিন্তু আমদানিকারকদের দাবি, প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে প্রায় ৫৭ টাকার ব্যবধান রয়েছে। ফলে খুচরো পর্যায়ে চট করে এক কেজি কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকার নিচে নামলো কি না, সেটি এখন দেখার বিষয় ।

আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে সরকারকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। সে হিসাবে আমদানি ব্যয় কেজিপ্রতি প্রায় ৭৮ টাকা হওয়ার কথা। তবে আমদানিকারকদের দাবি, পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর,খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, গত সোমবার (৩আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ভারতের একটি ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় কাস্টমস ও বন্দর-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে একই রাতে চালানটি ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। চালানটির আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ। খালাস কার্যক্রম পরিচালনা করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান শিমু শিপিং লাইন্স।বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কাগজপত্রের কাজ শেষ করা হয়েছে। দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে নাসিক থেকে এসব মরিচ আনা হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে সোমবার প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও বর্তমানে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকায়। বিক্রেতাদের আশা, আমদানি বাড়লে বাজারে দাম আরও কমে আসবে। দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে টানা ৮ মাস ১৪ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।গত সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ভারত থেকে কাঁচা মরিচ বোঝাই তিনটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মধ্য দিয়ে আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি টন কাঁচা মরিচ ৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে। এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর সর্বশেষ এই বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছিল। এরপর আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) বন্ধ হয়ে যায়। আমদানির খবরে হিলি বন্দর এলাকায় খুচরা পর্যায়ে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা কমেছে। সকালে যে কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা এক লাফে ৩০ টাকা কমে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম পলাশ জানান, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। এসব কাঁচা মরিচ ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হবে। আমদানি বাড়লে দাম আরও কমে আসবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন জানান, এ বন্দরের ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। সোমবার থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। কাঁচা মরিচ যেহেতু পচনশীল পণ্য, তাই ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাঁচা মরিচের কোয়ারেন্টিন ছাড়পত্র প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।





