Spread the love

থাইল্যান্ডে সাদা চালের রফতানি মূল্য বেড়ে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া এই চালগুলো ৫ শতাংশ খুদযুক্ত। রফতানিকারকদের বাড়তি কেনাকাটা, জরুরি চালানের চাহিদা এবং বৃষ্টির কারণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে সমস্যায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বাড়ছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজের।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি প্ল্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর চালের রফতানি মূল্য টনপ্রতি ৪৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৯ ডলার, যা গত দুই মাসে সর্বোচ্চ।বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগাম চুক্তির দায় মেটাতে রফতানিকারকরা পরিমাণে চাল বেশি কিনছেন। ফলে অল্প সময়ে সরবরাহের জন্য চালের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ধান শুকানো ও মাড়াইয়ে সমস্যা হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। থাই রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপমহাসচিব ওয়ান্নিওয়াত কিতিরিয়াংলার্প বলেন, দেশটির বড় জলাধারগুলোয় পানির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমেছে। ২ সেপ্টেম্বর জলাধারগুলোর মোট ধারণক্ষমতার ৬৮ শতাংশ পানি ছিল, গত বছর যা ছিল ৭১ শতাংশ। ব্যবহারযোগ্য পানিও ৫৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৩ শতাংশে নেমেছে।

ইরাকের চাল কেনা কমলেও রফতানি বাজারে থাই চালের চাহিদা রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় কিছু চাল তুরস্ক ও জর্ডান হয়ে স্থলপথে পাঠানো হচ্ছে। ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার বাজারেও নজর রাখছেন থাই রফতানিকারকেরা। তবে মালয়েশিয়া আপাতত থাইল্যান্ড থেকে চাল কেনা বন্ধ রেখেছে।

এশিয়া গোল্ডেন রাইসের বিক্রয়প্রধান আনুরাক দিসিরিসাথিয়েন বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে ধান কাটা ভালো মানের পূর্ণ দানার চালের পরিমাণ কমছে। এতে ধানের দাম এবং ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল উৎপাদনের খরচ বাড়ছে। তাছাড়া বিশ্ববাজারে সার ও জ্বালানির চড়া দামও কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে।’

থাই রাইস মিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে স্থানীয় বাজারে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের দাম প্রতি ১০০ কেজিতে ৯০ থেকে ১০০ বাথ বেড়েছে। তবে রফতানিকারকদের কেনাকাটা কমলে দাম বাড়ার গতি থামতে পারে। কারণ অক্টোবর পর্যন্ত ধান কাটা চলবে এবং বাজারে তাৎক্ষণিক চালের সংকট নেই।