
দেশে কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো এবং জৈবসারের জন্য প্রণোদনার বিষয়ে যখন নানা আলোচনা হচ্ছে তখন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) নিরাপদ কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় অনুদান দিচ্ছে । জানা গেছে নিরাপদ কীটনাশক ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ নারীদের পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে তুলতে এফএও বাংলাদেশকে চার লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে । গত রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এফএওর মধ্যে এ বিষয়ে দুটি প্রকল্প দলিল সই হয়েছে।

ইআরডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , কীটনাশকের জীবনচক্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জোরদারে দুই লাখ ডলার এবং গ্রামীণ নারীদের পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তুলতে দুই লাখ ৪৭ হাজার ডলার বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্প দুটির লক্ষ্য কৃষিতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব জীবিকা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এগিয়ে নেওয়া।
‘স্ট্রেংদেনিং ক্যাপাসিটিজ ফর লাইফসাইকেল ম্যানেজমেন্ট অব পেস্টিসাইডস’ শীর্ষক চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি এফএও-চীন দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত হবে। এতে অর্থায়ন করছে চীনের কৃষি ও গ্রামীণবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ইথিওপিয়া, ঘানা, জর্ডান ও কিরগিজস্তান এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বিষয়টি নিয়ে বলেন, প্রকল্প দুটি নিরাপদ খাদ্য, জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। কৃষক ও গ্রামীণ নারীদের কাছে প্রকল্পের সুফল পৌঁছাতে সমন্বয় জোরদার করবে ইআরডি।
কীটনাশক ব্যবস্থাপনার প্রকল্পের মাধ্যমে এর ব্যবহারের বিধিবিধান হালনাগাদ, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষায় পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করা হবে। প্রকল্প দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ৩০ শতাংশের বেশি সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
‘গ্রিন রুটস উইমেনস ফার্ম ল্যাবস’ শীর্ষক ২৪ মাসের কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ নারীদের পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে তোলা ও সম্প্রসারণে প্রশিক্ষণ, উপযোগী প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন ও বাজারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ তৈরি করা হবে। বাংলাদেশ ও উগান্ডায় পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচিটি চালু হচ্ছে।




