Spread the love

খাদ্য রসিক বাঙালি বরাবরই মাছ প্রিয়, আর মাছের পছন্দের সেই তালিকায় সব থেকে শীর্ষে চিরকালই থাকে পদ্মার রূপালী ইলিশের নাম । একটা সময় এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলার কলকাতায় বর্ষার মরশুমে প্রচুর ইলিশ মাছের রপ্তানি হত। তবে মাছের যোগান কম হওয়ায় ২০১২ সালে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার । পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে ২০১৯ সাল থেকে ওপার বাংলার মানুষকে দুর্গাপুজোর উপহার স্বরূপ নির্দিষ্ট সময় ও পরিমানে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি ২০২৪ এ পরবর্তী সময় অন্তর্বর্তির সরকারের আমলেও সেই প্রথা অনুসারে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছ পাঠানো হয়েছিল ভারতে।

সেই করেন বাংলাদেশে বর্তমান নতুন সরকার গঠনের পরে ভারতের মাছ ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা করা হয়েছিল নতুন সরকার তাদের দিক বিবেচনা করে হয়তো এবছর কিছুটা বাড়তি সময় তাদেরকে দেবেন যাতে তারা আরো বেশি পরিমাণে ইলিশ মাছ আমদানি করতে পারে। কারণ, গতবছর ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সময়ের অভাবে ১৫০ মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ মাছ আমদানি করা সম্ভব হয়নি। তাই এবছর আগস্ট মাসে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আগে থেকেই আবেদন করেন যাতে ভারতে ইলিশ মাছ আমদানির সময়সীমা বাড়ানো হয়। এমনকি চলতি বছর ভারত থেকে গুজরাটের ইলিশ মাছ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে কোন সম্মতি না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তারা আশাহত ।

কি কারনে বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্ত তা নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কোন জবাব তাদের কাছে নেই বলে জানান, ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের, সেক্রেটারি, সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ । তিনি কলকাতায় আজ সাংবাদিকদের বলেছেন , বাণিজ্য আর রাজনীতি এক নয়। আমি জানিনা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবস্থানের কারণে যদি এই সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাহলে দুঃখজনক। তিনি তো আগে থেকেই ভারতে আছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তখনও আমাদের অনুমতি দেয়। তাছাড়া, এই বছর আমরা দাম কমের কারণে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে গুজরাটের ইলিশ পাঠিয়েছি বাংলাদেশে। তার পরেও এই ধরনের সিদ্ধান্ত কি কারনে নেওয়া হয়েছে আমি জানি না। তবে এবছর কলকাতার বাঙালিরা পদ্মার ইলিশ মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার হতাশ বলেই তিনি মনে করেন।