Spread the love

শৈশবে ফলটি খুব সস্তায় পাওয়া যেতো বাজারে, এমনকি ডোবা বা ছোটখাটো জলাধারে । অদ্ভত আকৃতির এই ফলটি  কোথাও ‘ ’ জলসিঙ্গারা ’ নামে  পরিচিত,  কোথাও ’ পানিফ ‘ । সেই পানিফলই এখন ভাগ্য ঘুরিয়ে দিচ্ছে প্রান্তিক কৃষকের।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা কিংবা বছরের পর বছর নিচু জমি অনাবাদি পড়ে থাকা এখন আর কোনো অভিশাপ নয়। সেখানে সম্ভাবনার আলো জ্বালাচ্ছে পুষ্টিকর ‘পানিফল’। স্বল্প বিনিয়োগে খরচের দ্বিগুণ লাভ মেলায় সাতক্ষীরায় বাড়ছে এর চাষ। বিশেষ করে সদর উপজেলার ধূলিহর, ব্রহ্মরাজপুর এবং কলারোয়ার গোপীনাথপুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হচ্ছে এই জলজ ফসল।

গুণগত মানসম্পন্ন ও পুষ্টিকর এই ফলের আবাদে এবার জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সাফল্য। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৫৫ হেক্টর জমিতে। এমনকি শ্যামনগরে সীমিত লোনা পানিতেও ২ হেক্টর জমিতে চলছে এর সফল পরীক্ষামূলক চাষ।

 

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর জেলাজুড়ে ১০৫ হেক্টর জমিতে পানিফল চাষ হয়েছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য লাভ আর কম ঝুঁকির কারণে এবার তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ হেক্টরে! চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন পানিফল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এই ফল চাষে একদিকে যেমন পতিত জমি কাজে লাগানো যাচ্ছে, তেমনি আবাদেও খরচ তেমন নেই। বর্তমানে ক্ষেত থেকে প্রতি মণ পানিফল ১৭শ থেকে ১৮শ টাকায় কিনে নিচ্ছেন ফড়িয়া বা পাইকাররা। আর শহরের বাজারে ২২শ থেকে ২৪শ টাকায় বিক্রি করছেন।

নারী ও পুরুষ মিলে এই কাজে নেমে পড়েছেন। হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থান। কৃষি বিভাগও চাষিদের পুষ্টিকর এই ফল আবাদে জোগাচ্ছে অনুপ্রেরণা।

সবশেষে যে কথাটি না বললেই নয়, এই পানিফল সত্যি ঘুরিয়ে দিতে পারে পুরো দেশের ভবিষ্যৎ! পানিফল শুধু কাঁচা খাওয়ার ফল নয়, কারণ এই ফল শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা যায় সম্পূর্ণ গ্লুটেন-মুক্ত আটা। চীন ও ভারতে যার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও বহুমুখী ব্যবহার। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন কমাতে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় এই পানিফলের আটা যেন এক ধন্বন্তরী ওষুধ! যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ করা গেলে এটি হতে পারে  দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল।