Spread the love

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় উচ্চফলনশীল ‘জি-৯’ (গ্র্যান্ড নাইন) জাতের কলার বাণিজ্যিক চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শ এবং সমন্বিত বাগান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অঞ্চলে লাভজনক কৃষির একটি সফল মডেল গড়ে উঠেছে। স্বল্প খরচ ও কম সময়ে উন্নত জাতের এই কলা চাষে ভালো ফলন পাওয়ায় স্থানীয় অন্য কৃষকদের মধ্যেও এখন বাণিজ্যিকভাবে জি-৯ কলা চাষের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে।

রংপুরের একটি নার্সারি থেকে টিস্যু কালচার চারা সংগ্রহের মাধ্যমে প্রায় দুই একর জমিতে ১২ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে এই কলা চাষ শুরু করা হয়। জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কলাগাছের ফাঁকে ফাঁকে আমের চারা রোপণ করে এক কার্যকর সমন্বিত বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। জি-৯ জাতের কলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি উচ্চফলনশীল ও রোগসহনশীল। সাধারণ জাতের তুলনায় এর আকার বেশ বড় হয় এবং প্রতিটি কাঁদিতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত কলা ধরে। মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা প্রাথমিক খরচে গড়ে তোলা এই বাগানে শ্রমের প্রয়োজন তুলনামূলক কম এবং কলা বিক্রির পাশাপাশি নিজস্ব নার্সারিতে টিস্যু কালচার চারা বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই উদ্ভাবনী উদ্যোগে সার্বিক সহায়তা প্রদান করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এসএসিপি-রেইনস (SACP-RAINS) প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা, চারা ও কৃষি উপকরণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানান, জি-৯ অত্যন্ত লাভজনক একটি জাত এবং আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলে পটুয়াখালীসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের কলার চাহিদা মেটাতে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।