Spread the love

 

 

জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন চীনে কাঠাঁল রপ্তানির চুক্তির কথা বলেছেন , তখন গাজীপুরের কাপাসিয়ার চাষীরা জানাচ্ছেন যে তারা কাঠাঁলের দাম পাচ্ছেন না । একটি কাঠাঁল ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রী করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। যদিও গাজীপুরের শ্রীপুর-কাপাসিয়ার লালমাটির কাঠাঁল গাছের সুমিষ্ট  কাঁঠালের কথা তার বলে গর্বের সাথেই ।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আউলিয়া খাতুন জানিয়েছেন শুধু কাপাসিয়াতেই ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে কাঠাঁল চাষ হয়েছে । আর এসব জমি থেকে এবার ৭৩ হাজার ৫২৫ টন কাটাঁল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে । কিন্তু এই ব্যপক উৎপাদনে খুশি হলেও কাঁঠাল চাষীদের মুখে হাসি নাই।

ন্যায্য দাম না পাওয়ায় যে চাষী গতবছরের মত আয় হচ্ছেনা, কাঁঠাল থেকে।  উৎপাদন হয়েছে যথেষ্ট, তবুও চাষিরা জানালেন, তাদের ক্ষোভের কথা।  বাজারমূল্য না থাকায় পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা । শুধু গাজীপুর নয় সারা দেশেই এবার কাঁঠালের পর্যাপ্ত ফলন হয়েছে। তবে গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাপাসিয়ার লাল মাটির সুস্বাদু কাঁঠালের  সুনাম দেশজুড়ে।

কাঁঠাল চাষি আনোয়ার হোসেন বললেন ,  “খুব স্বাদ এইদিকের কাঁঠাল। কিন্তু আমরা বাজার পাই না, বাজার একবারে কম। কেউ ২০ টাকা পিস চিল্লাইয়া বেচে, কেউ ২৫ টাকা, কেউ ৩০ টাকা। খুব ভালো কাঁঠাল হইলে ৩০ টাকা, না অইলে একটু নরমাল হইলে ২০-২৫ টাকা।” প্রান্তিক এই চাষি আরো জানান, তার বাগানে সাত শতাধিক কাঁঠাল গাছ থাকলেও বাজার মন্দা হওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারছেন না। গত বছরের তুলনায় এবার কাঁঠাল বেশি উৎপাদন হলেও দাম মিলছে অনেক কম।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, কাঁঠাল দ্রুত বিক্রি না করলে  নষ্ট হয়ে যায়। আর এই সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগী বা পাইকাররা পানির দামে কাঁঠাল কিনে নিচ্ছেন। যদি কাপাসিয়ায় সরকারিভাবে একটি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার থাকত, তবে কৃষকরা ঠিক সময়ে সঠিক মূল্যে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারতেন। স্থানীয় বাসিন্দা এবং কাঠাঁল চাষ ও ব্যবসার সাথে জড়িতরা চান ঐ এলাকায় একটি ফল সংরক্ষণাগার হোক বা এমন কোনো প্রযুক্তি দিক কৃষি বিভাগ যাতে কাঠাঁল বিক্রী না হলে তা সংরক্ষণ করা যায় ।

 

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, কাপাসিয়ার দেড় হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে যে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে।  এই বিপুল পরিমাণ কাঁঠালকে যদি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সঠিকভাবে সরবরাহ করা যায়, তবে কৃষকদের এই লোকসান কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা আরো  জানিয়েছেন, শুধু দেশীয় বাজারই নয়, কাপাসিয়ার কাঁঠাল এখন বিদেশের বাজারেও প্রবেশ করতে শুরু করেছে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এথনিক মার্কেটসহ চীনের একটি প্রতিনিধি দলের সাথেও এই কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তারা আশা করছে সরকার প্রধান যেহেতু নিজে চীন ঘুরে এসে জাতীয় সংসদে কাঠাঁল রপ্তানীর সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন তাই কৃষি মন্ত্রনালয় এ ব্যপারে উদ্যোগী হবে।

যেহেতু কাঁঠাল পচনশীল, তাই চীনে রপ্তানি প্রক্রিয়া সফল করতে হলে কাপাসিয়া অঞ্চলে দ্রুত বিশেষায়িত কুলিং চেইন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি। সংসদে নেওয়া  রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে কাঁঠাল স্থানীয় বাজারে নষ্ট না হয়ে দেশের জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা বয়ে আনতে পারে। যা একই সাথে গ্রামীণ অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে।