
যদিও চট্টগ্রামের খুলসি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় বলেছিলেন এক কেজি এ্যভোকেডো বিক্রী হয় এক হাজার টাকা কেজি,কিন্তু রাজধানীর গুলশানের একটি সুপারশপে গিয়ে দেখা গেলো বিদেশী এই ফলটির দাম প্রতি কেজি ২২৯৫ টাকা। যাদের সামর্থ্য আছে তারা কিনে খাবেন। কিন্তু আশার কথা এই যে দামি এই ফলটির চাষ বাড়ছে চট্টগ্রামে। শখের বশে বিদেশ থেকে চারা এনে বাগানে লাগালেও এখন তা বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ।

এ্যাভোকেডো একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ দামি ফল। ফলটি নাশপাতি ও পেয়ারার মত লম্বাটে , একটি ফলের ওজন ২৫০ হতে ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত। চট্টগ্রামের কয়েকজন উদ্যাক্তা এই ফলের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। এই ফলের চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকারের কৃষি বিভাগও।

এ্যাভোকেডো মেক্সিকোর মধ্য আমেরিকার ফল।এটি পুষ্টিকর, দামি, মাখনের মতো নরম ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত ফল। এই ফলকে মাখন ফলও বলা হয়। ফলটির ত্বক পুরুত্ব ঘন ও সবুজ। ভিতরের অংশ মাখনের মতো, মাঝখানের বড় একটা বীজ থাকে। বীজ এবং ত্বক বাদে বাকি অংশটি খাবার উপযোগী। এই ফলটি সালাদ, জুস, সবজি, স্যান্ডউইচে ব্যবহার করা হয়।চট্টগ্রামের নামীদামী সুপার শপগুলোতে এই ফল পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

চট্টগ্রামের দুই ব্যবসায়ী ও কয়েকজন উদ্যাক্তা বিদেশ থেকে বীজ ও চারা এনে রোপণ করেন এবং সাফল্যও পাচ্ছেন। জানা গেছে আগস্ট – সেপ্টেম্বর মাসে ফল পাকবে। কলমের চারা রোপণ করলে দুই বছরের মধ্যে ফল আসে।
ফটিকছড়ি উপজেলার এক চা বাগানের বাংলোর সীমানায় প্রায় অর্ধশত চারা রোপণ করেন ৫ বছর আগে। গতবছর থেকে ফল পাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি হালদা ভ্যালি চা বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার আবুল কাশেম জানিয়েছেন শখের বশে তারা কয়েকটি এ্যাভোকেডো গাছের চারা এনেছিলেন। কিন্তু এখন সেগুলো থেকে ফল পেতে শুরু করেছেন । এমনকি এরই মধ্যে বিক্রী করেছেন কয়েককেজি।
খুলসী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ মোঃ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন এ্যাভোকেডোর ভালো ফলন নিশ্চিত করতে উভয় জাতের ( টাইপ এ, টাইপ বি) চারা পাশাপাশি লাগাতে হবে। যা পরাগায়নে সহায়তা করে। তিনি বলেন এই ফলটির পুষ্টিগুনের কথা বলে শেষ করা যাবে না। হৃদরোগ থেকে শুরু করে আরো কয়েকটি রোগের মহাঔষধ হিসেবে কাজ করে এটি। এ্যাভোকেডোর এন্টিঅক্সিডেন্ট অনেক বেশি থাকায় সারাবিশ্বে অধিক দামের ফল হিসেবেই তা বিক্রী হয়। তাই দেশে এই ফলটির পলন বাড়াতে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগ উপ পরিচালক ডঃ শাহ আলম জানান, এই ফলটি বিমানবন্দর দিয়ে বেশি আমদানি হয়, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দিয়ে ৫ মেট্রিক এ্যাভোকেডো ফল আমদানি হয়েছিল।
এ্যাভোকেডোর গাছে রোগ ব্যাধি কম । উঁচু জায়গা ও বেলে দোঁআশ মাটিতে এর চাষ হয়। কৃষি বিভাগের আশা এ্যাভোকেডোর চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। এই ফলের চাষ বৃদ্ধি পেলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা ।




