
বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করল দেশ। রাজধানীর গাবতলীতে বিএডিসি কর্তৃক স্থাপিত ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) সেন্টারে চালু হতে যাচ্ছে সার্বক্ষণিক কোয়ারেন্টাইন অফিস। এর ফলে রপ্তানিকারকেরা এখন একই স্থানে কৃষিপণ্য শোধন (ট্রিটমেন্ট), আধুনিক প্যাকিং এবং কোয়ারেন্টাইন ছাড়পত্র সম্পন্ন করে সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠাতে পারবেন।
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই ভিএইচটি সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও আস্থা অর্জনের জন্য বিশ্বমানের প্যাকিং ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি এবং এই সেন্টারটি সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করবে।
আম, লিচু বা কাঁঠালের মতো দ্রুত পচনশীল ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং মাছি বা পোকার আক্রমণ। ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট বা জলীয় বাষ্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত তাপ দিয়ে ফল শোধন করার এই প্রযুক্তি পণ্যের গুণগত মান ও সতেজতা অক্ষুণ্ন রেখে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে।

জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলো কোয়ারেন্টাইন ও শোধন প্রক্রিয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেয়। গাবতলীর ভিএইচটি সেন্টারটি চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আমসহ অন্যান্য ফল রপ্তানি করা এখন অনেক সহজ হবে।
এই সেন্টারের মাধ্যমে শুধু আম নয়; লিচু, কাঁঠাল, বরই, টমেটো, পেঁপে এবং মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।
আগে কৃষিপণ্য এক জায়গায় ধোয়া, অন্য জায়গায় প্যাকিং এবং ভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হতো। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি পণ্যের মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকত।
মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন: “রপ্তানির প্রশ্নে আমরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করছি। পণ্য এখানে আসবে, ওয়াশ হবে, প্যাকিং হবে এবং এখানেই কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি রপ্তানির জন্য চলে যাবে।”

রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও নিখুঁত করতে বিমানবন্দরে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণাগার (টেম্পারেচার কন্ট্রোলড স্টোরেজ) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত পচনশীল পণ্যের তাজা ভাব ধরে রাখবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রপ্তানিকারকদের প্রতি কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে বিদেশি ক্রেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করতে হবে। কোনোভাবেই যেন পণ্যের মান নিয়ে আপস করা না হয়।
সরকার কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সব ধরনের নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেবে। গাবতলীর এই ভিএইচটি ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।




