
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ২,৭২৭.৫১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, আগের অর্থবছরে (২০২৫-২৬) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সংশোধিত বাজেট ছিল ৩,৩৪৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে এককভাবে মৎস্য খাতের জন্য মাত্র ৬০৪.৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দে রাজস্ব ব্যয় মিটিয়ে ১৫০ কোটি টাকাও উন্নয়ন ব্যয় করা সম্ভব হবে কী না সন্দেহ।

সামগ্রিকভাবে বলা যায় যে-
- জিডিপি অবদানের তুলনায় অপর্যাপ্ত বরাদ্দ: বাংলাদেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ২.৫৩% এর বেশি হলেও, বাজেটে এককভাবে মৎস্য খাতের জন্য বরাদ্দ (৬০৪.৬৯ কোটি টাকা) তুলনামূলকভাবে বেশ কম।
- সমন্বিত বাজেটের ফাঁক: কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মিলিয়ে বড় বরাদ্দ (৪৩,৩৩৫ কোটি টাকা) দেখানো হলেও, মৎস্য খাতের জন্য একক সংস্থান প্রান্তিক চাষিদের চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
- ই-ট্রেসেবিলিটি (e-Traceability) ব্যবস্থার অভাব: ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বাজারে মাছ রপ্তানি বাড়াতে হ্যাচারি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ‘ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি’ বা মাছের উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার সঠিক রেকর্ড থাকা জরুরি। বাজেটে এই আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়নে কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা বরাদ্দ রাখা হয়নি।
- কোল্ড চেইন অবকাঠামোর অনুপস্থিতি: মৎস্যজাত পণ্য দ্রুত পচনশীল হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে বিশ্বমানের কোল্ড চেইন – যা এই বাজেটে উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

- গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা: ব্লু-ইকোনমি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।
- মাছের খাদ্য (Feed) ও পোনার মান নিয়ন্ত্রণহীনতা নিম্নমানের খাদ্য সংকট: বর্তমানে মৎস্য চাষিদের সবচেয়ে বড় ব্যয় হয় মাছের খাদ্যে। যদিও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে, কিন্তু স্থানীয় বাজারে তৈরি হওয়া ফিডের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত তদারকি বা কঠোর রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কের প্রতিফলন বাজেটে নেই।

- জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন তহবিলের ঘাটতি/উপকূলীয় ঝুঁকি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে এবং আইলা বা আম্ফানের মতো সাইক্লোনে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাজেটে সাধারণ মৎস্য বিমার কথা বলা হলেও জলবায়ু-সহিষ্ণু মাছ চাষ পদ্ধতি (Climate-resilient aquaculture) সম্প্রসারণে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের জন্য কোনো বিশেষ প্রণোদনা বা বরাদ্দ রাখা হয়নি।

- প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব ও বাস্তবায়ন ধীরগতি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়ার একটি দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে। প্রকল্পগুলোতে মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত সম্প্রসারণ কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বরাদ্দ কম, যা সম্পদের অপচয় ঘটায়। তাছাড়া মৎস্য অধিদপ্তরের বিদ্যমান জনবল কাঠামোর দুর্বলতা দূরীকরণে কোন প্রস্তাব বাজেটে নেই।
মৎস অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদের ফেসবুক থেকে








