Spread the love

রাসায়নিক সারের চড়া দাম আর মাটির স্বাস্থ্যহানির চিন্তায় যখন কৃষকেরা দিশেহারা, তখন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ বা কেঁচো সার ব্যবহার করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার তরুণ চাষি সমিজ উদ্দিন। উপজেলার ধনমন্ডল এলাকার এই যুবকের হাত ধরে ওই অঞ্চলে এখন পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর অঞ্চল টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে সমিজ উদ্দিনকে একটি ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী খামার করে দেয় স্থানীয় কৃষি অফিস। মাত্র ৪টি রিং নিয়ে যাত্রা শুরু করা সমিজের খামারে এখন রিংয়ের সংখ্যা ১২টি, সাথে যোগ হয়েছে একটি বড় হাউজ। বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮০০ কেজি জৈব সার উৎপাদন করছেন।

সমিজ উদ্দিন জানান, আগে জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে আশানুরূপ ফলন পাচ্ছিলেন না, খরচও হচ্ছিল অনেক বেশি। কিন্তু কেঁচো সার ব্যবহারের পর তার চাষাবাদের খরচ এক ধাক্কায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

চলতি মৌসুমে নিজের দুই বিঘা জমিতে চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়স চাষ করেছেন সমিজ। তিনি বলেন, “রাসায়নিক সার কমিয়ে এই ভার্মি কম্পোস্ট দেওয়ায় গাছের স্থায়িত্ব ও ফলন দুই-ই বেড়েছে। দুই বিঘা জমি থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকা লাভ করেছি। এখনো এক মাস সবজি বিক্রি করতে পারব।” নিজের জমিতে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত সার ১২ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে এলাকার অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন তিনি। এতে প্রতি মাসে তার বাড়তি আয়ও হচ্ছে।

সমিজ উদ্দিনের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য চাষিরাও এখন কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকেই তার খামার পরিদর্শনে আসছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কাদের সরকার বলেন, “আমরা তাকে শুধু একটি প্রদর্শনী দিয়েছিলাম। কিন্তু সমিজ উদ্দিন তার মেধা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে আজ বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছেন। তিনি এলাকার অন্য কৃষকদের জন্য একটি দারুণ উদাহরণ।”

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ জানান, মাটির দীর্ঘমেয়াদী উর্বরতা রক্ষা এবং টেকসই কৃষির প্রসারে ভার্মি কম্পোস্টের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বলেন, “আমরা কৃষকদের রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এই শতভাগ প্রাকৃতিক সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। সমিজের মতো অন্য কৃষকরাও যদি এগিয়ে আসেন, তবে দেশের কৃষি খাতে একটি ইতিবাচক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”