
গত এপ্রিলে বাংলাদেশের ‘পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্স (পিএমআই) আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪ দশমিক ৬-এ দাঁড়িয়েছে। আর অর্থনীতির এই গুরুত্বপুর্ন সূচকের প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে দেশের কৃষিখাত।
পিএমআই বাড়ার সূচক ইঙ্গিত করছে, যে দেশের অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের গতি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। এ উন্নতির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে কৃষির সাথে উৎপাদন খাতও। আর সেবা খাত উন্নতি করলেও প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। এদিকে এপ্রিলে এই তিন খাত ভালো করলেও নির্মাণ খাতে সংকোচন অব্যাহত রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পিএমআই প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই) ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ যৌথভাবে পিএমআই প্রণয়ন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লেও দেশের অর্থনীতি এখন সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। পিএমআই সূচকের মাধ্যমে মূলত প্রতি মাসে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি প্রকাশ করা হয়।
অর্থনীতির প্রধান খাত চার খাত—কৃষি, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা খাতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের মতামতের ভিত্তিতে এ পিএমআই প্রকাশ করা হয়। সূচক তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল কেনা, পণ্যের ক্রয়াদেশ, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মূলত শূন্য থেকে ১০০ নম্বরের মধ্যে পরিমাপ করা হয়। সূচকের মান ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ ও ৫০-এর নিচে হলে সংকোচন বোঝায়।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে কৃষি খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। পাশাপাশি উৎপাদন খাতও আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে। তবে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। আর নির্মাণ খাতে সংকোচন আরও বেড়েছে।
কৃষি খাতে টানা অষ্টম মাসের মতো প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেইসঙ্গে এ খাতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও বেড়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ইনপুট খরচ ও অর্ডার ব্যাকলগে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানও আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে।
উৎপাদন খাত আগের মাসের সংকোচন কাটিয়ে আবার প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে। কারখানার উৎপাদন, কাঁচামাল কেনা এবং ইনপুট মূল্য বাড়ায় এ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। নতুন অর্ডার, রপ্তানি অর্ডার এবং কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে। তবে ফিনিশড পণ্য ও আমদানিতে সংকোচন অব্যাহত থাকলেও তার গতি কমেছে। অন্যদিকে সরবরাহকারীদের ডেলিভারি সময় ও অর্ডার ব্যাকলগ আবার সংকোচনে গেছে।
নির্মাণ খাতে টানা তৃতীয় মাসের মতো সংকোচন দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, পতনের গতি আরও বেড়েছে। নতুন কাজ ও নির্মাণ কার্যক্রম সংকুচিত রয়েছে, কর্মসংস্থানও কমেছে। তবে ইনপুট খরচ ও অর্ডার ব্যাকলগে প্রবৃদ্ধি থাকলেও তা আগের তুলনায় ধীর।
সেবা খাত টানা ১৯তম মাসের মতো সম্প্রসারণে থাকলেও প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান ও ইনপুট খরচে বৃদ্ধি থাকলেও নতুন ব্যবসা ও অর্ডার ব্যাকলগ আবার সংকোচনে নেমেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও অর্থনীতি এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, এপ্রিলের পিএআই এটা ঈঙ্গিত করছে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো সম্প্রসারণ ধারায় রয়েছে। কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও নির্মাণ খাতে তীব্র সংকোচন রয়েছে।





