প্রতি ডিমে খামারী লোকসান দিচ্ছেন সাড়ে ৩ টাকা, আবার মধ্যস্থ কারবারী লাভ করছেন ৫ টাকা। একদল লোকসানে সর্বস্ব হারাচ্ছেন, আরেক দল ফুলে ফেঁপে বড় হচ্ছেন।
ডিমের বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে উৎপাদন খরচ সাড়ে ৯ টাকা হলেও লোকসান গুনে খামারিরা প্রতি পিস ডিম খামার পর্যায়ে সাড়ে ৬ টাকা বিক্রি করছেন। অথচ সেই ডিম আড়ত হয়ে খুচরা বাজারে সাধারণ ভোক্তাকে ১১ টাকায় কিনে খেতে হচ্ছে। কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্যে একদিকে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাড়তি মূল্যে ডিম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতা। আর দীর্ঘদিন লোকসান গুনে অনেক প্রান্তিক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোট খামারগুলো বন্ধ হয়ে গেলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ডিম ও মুরগির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। এতে চাপে পড়বে ভোক্তা।
টিসিবির দৈনিক পণ্যমূল্যের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ও রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩৬-৪০ টাকা। আগের দিন ৩২ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুরের প্রান্তিক খামারি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সোমবার আমি ডিম বিক্রি করেছি সাড়ে ৬ টাকায়। অথচ প্রতিটি ডিম উৎপাদনে আমার খরচ হয়েছে সাড়ে ৯ টাকা। চার মাস ধরে লসে বিক্রি করছি। এখন এই লোকসান বহন করার মতো আর শক্তি নেই।
সবাই জানে পোলট্রি খাত গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো না গেলে ছোট খামারিরা দ্রুত ঝরে পড়বে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আগের তুলনায় দেশে পোলট্রি খামারের সংখ্যা কমেছে। তবে এই খাত নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। দেশে পোলট্রি খামারের সংখ্যা কত এবং এই খাতে কত মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে, নির্ভুল তথ্য নেই। এই খাতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এখন সময়ের দাবি



