Spread the love

২০১২ সালে  সিটি কপোরেশন ঘোষণার পর রংপুরের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেড়ে গেছে এবং নগরে বেড়ে গেছে জনসংখ্যার চাপ। কলকারখানা, আবাসন, সরকারি অফিস ইত্যাদির  সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে নগরের আয়তন ও জনসংখ্যা বেড়েছে। সম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে জনসংখ্যার চাপ এবং সবুজ কমে যাওয়ায় রংপুর নগরী  দেশের অন্যতম  উত্তপ্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ণ কেন্দ্র  এবং  ইউএনডিপি ক্ষুদ্র অনুদান প্রকল্পের আওতায় একটি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এই কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে স্কুল প্রদর্শনী  এবং নগর কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ।

নগরীর দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে তৈরি করা হয়েছে ছাদবাগান। এই বাগানে রয়েছে ৫০ ভাগ শাকসবজি ও ফল, ২০ ভাগ  ফুল ও অন্যান্য উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল। এর উদ্দেশ্য হলো ছাত্র ছাত্রীদের হাতে কলমে ছাদবাগানের বিভিন্ন প্রযুক্তি দেখানো ও তাদের আগ্রহী করে তোলা। এই বাগানে  আইপিএম প্রযুক্তি, ভার্টিক্যাল বাগান, জিও ব্যাগ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ সহ নানা প্রযুক্তি  প্রদর্শিত হয়েছে।

রংপুর  সরকারি গার্লস স্কুল এর  সিনিয়র  শিক্ষক জনাব লিয়াকত আলী  জানালেন,  এই বাগান সবার মধ্যে বিশেষ আগ্রহ  সৃষ্টি করেছে এবং অনেক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক  নিজেরাই বাগান গড়ে তুলতে চাইছে। স্কুল এর পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। তিনি জানান, স্কুল এর ছাত্রীরা  কৃষি বিষয়ে হাতে কলমে শিখতে পারছে। প্রকল্প শেষ হলেও তারা এটিকে চালু রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

অধ্যক্ষ জনাব ইনামুল হাসান

লায়ন্স স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইনামুল হাসান  জানান, পরিবেশ উন্নয়নে এই বাগানের গুরত্ব তারা বুঝতে পেরেছেন। তিনি আগামী মৌসুমে অন্যান্য  ছাদে এই বাগান সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ছেলেমেয়েদের কৃষি বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য এটি একটি চমৎকার চেষ্টা। অন্যান্য স্কুলগুলোও এই ধরণের বাগান সৃষ্টিতে এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশা করেন।

সুমনা রানী দাশ

প্রশিকার উপ পরিচালক সুমনা রানী  দাশ  জানান, তারা এই কাজটি করছেন ক্ষুদ্র একটি প্রকল্পের মাধ্যমে, এটি একটি অ্যাকশন রিসার্চ। এর ফলাফল দেখে এটিকে আরও সম্প্রসারণের  উদ্যোগ নেয়া হবে।

এই কার্যক্রমের আওতায় নগরে ৫০টি ছাদবাগান এবং ৫০টি পতিত জমিতে ক্ষুদ্র বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। স্কুল বাগানের যে মডেল সেটি   অনুসরণ  করা হয়েছে   ছাদ বাগানের ক্ষেত্রে এবং কালিকপুর মডেল অনুসরণ করা হয়েছে মাটির বাগানের ক্ষেত্রে।

এই বাগান গড়ে তোলার জন্য সব ধরণের উপকরণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সকল ক্ষেত্রেই কেমিক্যালমুক্ত চাষাবাদে আগ্রহী করা হয়েছে। পোকা দমনের জন্য জৈব পদ্ধতির ব্যবহার হচ্ছে। যার ফলে সবাই নিরাপদ ফসল উৎপাদন করতে পারছেন।

নগর কৃষির ক্ষেত্রে আমাদের তৎপরতা কেবল বড় শহর কেন্দ্রিক। সেক্ষেতে বর্ধিষ্ণু নগরী হিসাবে রংপুরে এই ধারণার ব্য্যপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন বলে সবাই মনে করেন।