মৌরি
Spread the love

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের লাহারপুর গ্রামের কৃষক  জয় চন্দ্র দেব মসলা জাতীয় ফসল মৌরি চাষে সফলতা পেয়েছেন।   সুগন্ধি ও ঔষধিগুণে সমৃদ্ধ এই ফসলের চাহিদা বাড়ায় চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় উচ্ছ্বসিত তিনি।

লাহারপুর গ্রামের মাঠজুড়ে এখন মৌরি ফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বাতাসে ভাসছে এর সুগন্ধ। স্থানীয়ভাবে এই ফসল কোথাও ‘গুয়ামুরি’, আবার কোথাও ‘মহুরি’ নামে পরিচিত। গাছ সাধারণত ২-৩ ফুট লম্বা হয় এবং এর ফুল ছাতার মতো আকৃতির, যা সাদা ও হলুদ রঙের হয়ে থাকে। পাতাগুলো মসৃণ ও পাখির পালকের মতো সরু।

চাষি জয় চন্দ্র দেব  ২০ শতক জমিতে মৌরি চাষ করেছেন। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং ফলন ভালো হলে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ৮০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার জমিতে মৌরির আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ফসল ভালো অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি হেক্টরে ১.১ থেকে ১.৩ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যেতে পারে।

মৌরি একটি উচ্চমূল্যের মসলা, যা দৈনন্দিন রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পাঁচফোঁড়নের অন্যতম উপাদান হিসেবে এটি জনপ্রিয়। পাশাপাশি এতে রয়েছে পাচক, প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ। মাছ-মাংসের তরকারি, আচার, পিঠা ও মিষ্টান্ন তৈরিতে এর ব্যবহার রয়েছে ব্যাপক।

কৃষিবিদরা বলছেন, রবি মৌসুম মৌরি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এ সময় রোগবালাই কম হয় এবং উৎপাদনও বেশি পাওয়া যায়।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, স্বল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় মৌরি চাষ শ্রীমঙ্গলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। চা শিল্পের পাশাপাশি মসলা চাষ বাড়লে কৃষি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আসবে এবং কৃষকের আয় বাড়বে বহুগুণে।