
ভিয়েতনামে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিয়েতনাম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে উদ্ভিজ্জ খাদ্য রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ভিয়েতনামে তিল, আলুসহ অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যপণ্য রপ্তানি করতে পারবে।সংশ্লিষ্ট দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশকে উদ্ভিজজাত খাদ্য রপ্তানির জন্য নিবন্ধিত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ভিয়েতনামের উদ্ভিদ সুরক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন বিভাগ নিশ্চিত করেছে ‘উদ্ভিজজাত খাদ্য’ রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের নানা প্রচেষ্টার পর এটি বাস্তবায়িত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিয়েতনাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় বাজার। সেখানে উদ্ভিজজাত পণ্যের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। তিল বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য। আগে নিবন্ধনজনিত জটিলতার কারণে এই বাজারে প্রবেশ করা কঠিন ছিল। এখন সেই বাধা দূর হওয়ায় রপ্তানিকারকরা নতুন সুযোগ পাচ্ছেন।
শুধু তিল নয়, আলুসহ অন্যান্য উদ্ভিজজাত পণ্যের রপ্তানির পথও খুলে যাওয়ায় বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানির পরিধি বাড়বে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, রপ্তানি আয় বাড়বে এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে মান নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সার্টিফিকেট প্রাপ্তি এবং প্যাকেজিংয়ের মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। এর আওতায় রপ্তানির কিছু শর্তাবলি প্রেরণ করা হয়েছে, ভিয়েতনাম পক্ষ দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যতামূলক ফাইটোস্যানিটারি শর্ত মানতে হবে।
ভিয়েতনামে শস্য পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের জাতীয় উদ্ভিদ সুরক্ষা সংস্থা (এনপিপিও) থেকে ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট থাকতে হবে। এছাড়া চালানে ক্ষতিকর জীবজন্তু, ভিয়েতনাম নিয়ন্ত্রিত ক্ষতিকর জীবজন্তু বা বিদেশি ক্ষতিকর জীবজন্তু থাকতে পারবে না এবং কাঠের প্যাকেজিং বা ডানেজ ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক মান (আইএসপিএম ১৫) অনুযায়ী তা প্রক্রিয়াকরণ করতে হবে। এই শর্তগুলো মেনে চললে রপ্তানি সম্ভব হবে। এটিকে বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে নতুন বাজার সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কালবেলার সৌজন্যে




