Spread the love

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিকাজে পলিথিনের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সবজি চাষে জমি ঢেকে রাখা, বীজতলা প্রস্তুত ও মালচিংয়ের নামে ব্যাপকভাবে সাধারণ  পলিথিন ব্যবহারের পর তা যথাযথভাবে অপসারণ না করায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি জমিতে ব্যবহৃত এসব পলিথিন পরে মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলার চৌমহনি এলাকার কৃষক মো. জালাল উদ্দিন আগে জমিতে শুধু জৈব সার আর সেচের ব্যবস্থা করলেই হতো। এখন ফলন বাড়াতে অনেকেই পলিথিন ব্যবহার করছেন। কিন্তু মৌসুম শেষে এগুলো সরানো হয় না। জমিতেই পড়ে থাকে।  চাষের সুবিধার জন্য পলিথিন ব্যবহার করা হলেও পরে তা অপসারণে বাড়তি শ্রম ও খরচ লাগে বলে অনেকেই এড়িয়ে যান।

পরিবেশকর্মীরা বলেন, কৃষিতে অনিয়ন্ত্রিত পলিথিন ব্যবহার পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। পলিথিন মাটিতে শত বছরেও পুরোপুরি পচে না। এতে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়, উপকারী জীবাণু কমে যায় এবং ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হতে পারে।  বৃষ্টির সময় এসব পলিথিন খাল-বিল ও জলাশয়ে গিয়ে জমে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সজীব সরকার  জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির অংশ হিসেবে মালচিং পদ্ধতিতে বিশেষ ধরনের বায়োডিগ্রেডেবল শিট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক কৃষক সস্তা পলিথিন ব্যবহার করছেন, যা পরিবেশবান্ধব নয়। “আমরা সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। কৃষকদের পরিবেশসম্মত উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।কৃষি জমিতে পলিথিন জমে থাকলে মাটির বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং পানি ধারণক্ষমতা কমে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরতা হ্রাস পায়। একই সঙ্গে জমিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমে খাদ্যশৃঙ্খলেও প্রভাব ফেলতে পারে।এখনই নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে কৃষি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।