
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ স্বয়ং দাবি করেছিলেন যে দেশে সারের কোনো সংকট নেই। এমনকি এ সম্পকে প্রকাশিত সংবাদকেও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। গতকাল বুধবার সেই সংবাদ বড় করেই প্রকাশ করেছে ক্ষেতেপাতে । কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় দৈনিক বনিকর্বাতার প্রধান শিরোনামে একটি হচ্ছে সারের সংকট নিয়েই। সেই সংবাদে বলা হয়েছে “ সংকট আরো ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিএডিসি। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে আগামী শীতকালীন ও বোরো মৌসুমে দেশে ডিএপি সারের বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। “

বণিকর্বাতার খবরে বলা হয়েছে “ যুদ্ধের প্রভাবে ডিএপির সবচেয়ে বড় উৎস সৌদি আরব থেকে আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে আরেক চুক্তিবদ্ধ উৎস চীনও সার রফতানি বন্ধ রেখেছে। ফলে ডিএপি আমদানির জন্য জিটুজি চুক্তিবদ্ধ তিনটি দেশের মধ্যে বর্তমানে শুধু একটি উৎস থেকে সার পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল সংকটে দেশের একমাত্র ডিএপি উৎপাদনকারী কারখানাটিও বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতি মাসে চারটি করে লট ডিএপি আমদানি প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সার আমদানি ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।”

বিএডিসি ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বিএডিসি। চিঠিতে ডিএপি ও টিএসপি সারের বর্তমান মজুদ, আগামী পিক সিজনে চাহিদা এবং কী পরিমাণ আমদানি প্রয়োজন তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বিএডিসি সূত্র জানিয়েছে, টিএসপি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা হয় না, সেজন্য এটির আমদানি নিয়ে সমস্যা হবে না। তবে ডিএপি নিয়ে সংকট তৈরির ঝুঁকি রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বিএডিসি জানায়, চলতি অর্থবছরে আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টন ডিএপির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বিএডিসির আমদানি লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ২১ হাজার টন। ২৩ জুলাই পর্যন্ত বিএডিসির কাছে ডিএপির মজুদ ছিল ৩ লাখ ৯০ হাজার টন। চুক্তির আওতায় নির্ধারিত শিপমেন্ট শিডিউল অনুযায়ী মরক্কো থেকে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্ভাব্য আমদানি ৩ লাখ ২০ হাজার টন। সে হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে মজুদ ও আমদানিসহ বিএডিসির কাছে সম্ভাব্য ডিএপি থাকবে ৭ লাখ ১০ হাজার টন। ফলে বিএডিসির বরাদ্দের বিপরীতে ফেব্রুয়ারিতে ডিএপির সম্ভাব্য মজুদ ঘাটতি থাকবে ২ লাখ ১১ হাজার টন।সংস্থাটির চিঠিতে আরো জানানো হয়, বিএডিসি জিটুজি চুক্তির আওতায় মরক্কো, সৌদি আরব ও চীন থেকে ডিএপি আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে সৌদি আরব থেকে আমদানি অনিশ্চিত। ফলে মরক্কোর সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় ঐচ্ছিক লটের ডিএপি সার আমদানি করা জরুরি।
বিএডিসির চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ডিএপির সাতটি লট আমদানি করার কথা থাকলেও আমদানি করা সম্ভব হয়েছে মাত্র একটি লট। আরেকটি লট আমদানির সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হলেও লোহিত সাগরে উত্তেজনায় সেটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সৌদি আরবের কোম্পানি মা’আদেন আগস্টে কোনো সার সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে সরবরাহের কথা বললেও হরমুজ প্রণালি কিংবা লোহিত সাগর পরিস্থিতির কারণে পিক মৌসুমে সার আমদানির বিষয়টি অনিশ্চিত।




