
জুলাই মাসের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের কৃষি আবারো ঘুরে দাড়াতে শুরু করেছে । বিশেষ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণের সাত উপজেলায় বন্যার পানির তোড়ে নষ্ট হয়েছিল আমনের বীজতলা । আমন আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যাওয়া কৃষকরা নতুন করে বীজতলার কাজ শুরু করেছে। কৃষকদের দ্রুত উদ্যোগে বন্যার সেই ধকল কাটিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ জনপদের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন আবার আমনের চারা রোপণের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। দ্রুততার সাথে জমিতে চাষ দেওয়া, বীজতলা থেকে চারা নিয়ে রোপণ আর প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগে কৃষকের বাড়তি উৎসাহ— সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক সবুজ বপনের উৎসব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে জেলার ১৫টি উপজেলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৭ আগস্ট পর্যন্ত আবাদ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমি। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং ডোবা জমিগুলোতে পানি কমে আসায় আগামী দুই সপ্তাহে আবাদের গতি আরও বাড়বে। আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আমন আবাদের সময় রয়েছে। এতে আগামীতে আরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং এবার লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
গত বছর জেলায় আমন আবাদ হয়েছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৯ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর বন্যার কারণে শুরুতে আবাদ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও বীজতলা তৈরিতে কৃষকদের সাড়া ছিল বেশি। এ বছর আমনের বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ২১১ হেক্টর। এর বিপরীতে বীজতলা তৈরি হয়েছে ১০ হাজার ৭৩১ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৫২০ হেক্টর বেশি জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। সে কারণে এবার আবাদের পরিমাণও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি কমর্কতারা। তারাঁ বলছেন, অতিরিক্ত বীজতলা তৈরি হওয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত নতুন করে আমন আবাদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বন্যায় নষ্ট হয়ে যাওয়া চারা ও বীজের ঘাটতি পূরণে সরকারি সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জেলার পটিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী এবং সাতকানিয়া উপজেলার কৃষি জমিগুলোতে আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তারা কোথাও জমি প্রস্তুত করছেন, কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কোথাও আবার দলবেঁধে চলছে চারা রোপণ। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে ট্রাক্টর-পাওয়ার টিলার দিয়ে, কোথাও সনাতন পদ্ধতি গরু দিয়েও জমিতে চাষ দেওয়া হচ্ছে, তারপর সেখানে নিঁড়ানি দিয়ে চারা রোপণের উপযোগী করা হয়। জমি প্রস্তুতের পর সেখানে প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। বড় গৃহস্থরা দিনমজুর-কৃষি শ্রমিকদের দিয়ে চারা রোপণ করাচ্ছেন।
উত্তর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার ‘গুমাইবিলে’ এখন আমন ধান রোপার উৎসব চলছে। সারা দেশের জন্য আড়াই দিনের খাদ্য উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত বৃহৎ এই বিলে ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ আমন রোপা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন, কৃষি কর্মকর্তারা। গুমাইবিলের কৃষকরা জানিয়েছেন বন্যার সময় অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। তবে সরকারি অফিস থেকে বীজ এবং চারা দেওয়াতে কৃষকরা দ্রুত জমিতে চাষ করতে পেরেছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমন আবাদের এই ব্যস্ত সময়ে সার নিয়ে যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন। চট্টগ্রামে চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। ফলে আমন মৌসুমে সার সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানান তারাঁ ।
বাসসের সৌজন্যে




