Spread the love

 

ক্ষেতেপাতে ডেস্ক

চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা। কারণ ডিজেল সংকট। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বোরো চাষাবাদ। সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল কবে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যাবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই তাদের।

বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দিয়েও কৃষকরা পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। পাম্প মালিকদের দাবি, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে এই কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৭৫৪টি ডিজেলচালিত গভীর নলকূপ, ১০,৩৯,৩৩৭টি অগভীর নলকূপ এবং ১,৮৪,৩৮৪টি নিম্ন-উত্তোলন পাম্প চালু রয়েছে।

এ বছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫০.৫৪ লক্ষ হেক্টর, যার মধ্যে ৮ মার্চ পর্যন্ত ৪৮.৫৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে।

শুধুমাত্র রংপুর অঞ্চলেই ৫,০৯,০৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী এবং গাইবান্ধা – পাঁচটি জেলায় – ৩৫-৪০ শতাংশ আবাদযোগ্য জমি সম্পূর্ণরূপে ডিজেলচালিত অগভীর মেশিনের উপর নির্ভরশীল।

গ্রিড-বহির্ভূত এলাকার, বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা এবং ধরলা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষকরা জানিয়েছেন যে তাদের জমিতে সেচের সুবিধা বজায় রাখতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক স্থানে মাত্র দুই লিটার ডিজেল সংগ্রহের জন্য ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। অথচ ৩৩ বিঘা জমিতে সেচের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৩ লিটার প্রয়োজন।
ফিলিং স্টেশনের মালিকরা বলছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট এবং কুষ্টিয়ার কৃষক, খুচরা বিক্রেতা এবং পাম্প অপারেটররা একই রকম সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

রাজশাহী কৃষি বিভাগের মতে, জেলার ৩১,২৭৪টি সেচ পাম্পের ২৬,৫০৬টি বা প্রায় ৮৫ শতাংশ ডিজেলচালিত।
বোরো ক্ষেতে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার সেচের প্রয়োজন হয়, অন্যদিকে অন্যান্য ফসলের জন্য সপ্তাহে অন্তত একবার সেচের প্রয়োজন হয়। এখন, খুচরা বিক্রেতারা প্রতি লিটার ডিজেলের জন্য ৮-১০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ করছেন, যার ফলে দাম প্রায় ১১০ টাকায় পৌঁছেছে।

রংপুর কৃষি বিভাগের আশঙ্কা, অপর্যাপ্ত সেচ বোরো উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
কুষ্টিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা স্থানীয় দোকানদারদের কাছ থেকে প্রতি লিটারে ২০-২৫ টাকা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন

তবে, কুষ্টিয়ার কৃষিবিভাগ বলছে বিষয়টি এখনো বড় ধরণের সংকট তৈরি করে নি।

একই অবস্থা সিলেটের হাওর এলাকায়। কৃষকরা জানান, পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

কৃষিবিদদের মতে, বোরো মৌসুমের এই সময়ে সেচ কাজ ব্যাহত হলে ধানের ফলন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। ডিজেল সংকটের পাশাপাশি অনেক এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিংও কৃষকদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। সেচ দিতে না পারায় অনেক কৃষকের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না। কৃষকরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।