Spread the love

বাংলাদেশে ৪০ টি ফল ফসলের নিরাপদ উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন হলেও মাঠে তার সম্প্রসারণ ঘটেছে খুব কমই। বিজ্ঞানীরা দাবী করছেন এই নিরাপদ প্রযুক্তিগুলোর সম্প্রসারণ হলে দেশে খাদ্য  সিস্টেমের  উন্নয়ন ঘটবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট এর কীটতত্ত্ব বিভাগ  জৈব বালাইনাশক ভিত্তিক পোকা দমনের যে পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছ তা নিরাপদ  ফসল  উৎপাদনের জন্য মাইলফলক। এই সব  প্রযুক্তি ইতোমধ্যে কৃষি  সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে হস্তান্তর হয়েছে।

বর্তমান সময়ে  রাসায়নিক কীটনাশক  নির্ভর কৃষি উৎপাদনের কারণে খাদ্য শৃংখলে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যে কারণে খাদ্য আর নিরাপদ থাকছে না। কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ও অতি ব্যবহারের কারণে ফসল যেমন বিষাক্ত হচ্ছে তেমনিই পরিবেশ ও জনস্বাস্থের উপর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীট তত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড.  নির্মল কুমার দত্ত জানালেন, অনেক সবজিতে  সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি  কীটনাশকের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।  এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী প্রজন্ম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।  বিভিন্ন মাঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিজেদের  গবেষণাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে এই তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।  তিনি জানান, সবজির চেয়ে ফলের  ক্ষেত্রে কীটনাশকের উপস্থিতি অনেক কম

গত কয়েক বছরে  নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে কীটতত্ত্ব বিভাগ ক্ষতিকর পোকা দমনের জন্য ফেরোমেন ট্র্যাপ, আঠালো ট্রাপ, ব্যাগিং সহ নানা কৌশলের উপযোগিতা পরীক্ষা করেছেন এবোন তা কৃষকরা আনন্দের সাথে গ্রহণ করছেন।

ড.  নির্মল জানালেন, জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদন খরচ কম হয় এবং কৃষকরা  ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করেন। তিনি জানান , দেশে এখন অনেক জৈব বালাইনাশক পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু এগুলোর ব্যপক বিস্তারে সবার সহায়তা প্রয়োজন।

 

ক্ষতিকর পোকা দমনের সাথে সাথে উপকারী পোকাও উৎপাদন করছে কীটতত্ত্ব বিভাগ। এই পোকা দিয়েও ক্ষতিকর পোকা দমন করা হয়।

এই প্রযুক্তিগুলো ব্যপক ভাবে  ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে নিরাপদ খাদ্যের উৎপাদন সিস্টেম গড়ে তোলার জন্য জৈব বালাইনাশক ভিত্তিক পদ্ধতিগুলো সর্বস্তরে ব্যবহার হবে এটাই সবার প্রত্যাশা।

(গাজিপুর থেকে বিশেষ প্রতিনিধি)