
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, নীতিমালা লঙ্ঘন করে দলীয় বিবেচনা ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় দেশে সারসংকট তৈরি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব দাবি জানান।
জামায়াতের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দেওয়া; নিয়োগের যোগ্যতা ও লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি প্রকাশ; অর্থ আদায়ের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; সারসংকট নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির অসংগতি যাচাই; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত ব্যাখ্যা এবং তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ; পাশাপাশি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক যাচাই নিশ্চিত করা।সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও নাগরিকদের ওপর।’ তিনি অভিযোগ করেন, সার বিতরণ ও ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈরাজ্য হয়েছে এবং বিদ্যমান সরকারি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।
‘বিএনপির নেতারা টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন।’ অভিযোগ করে গোলাম পারোয়ার বলেন কিছু এলাকায় দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকা বিবেচনায় নিয়ে ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপির ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় সারসংকট হয়েছে এবং কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এক এলাকার বাসিন্দাকে অন্য এলাকায় ডিলারশিপ দেওয়া, আগে সারের ব্যবসা না করেও ডিলারশিপ পাওয়া, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির ডিলারশিপ নেওয়া এবং ভুয়া গুদাম ও চুক্তিনামা ব্যবহার করে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। রংপুরের পীরগাছায় বিএনপির প্যাডে দেওয়া ডিলার নিয়োগের তালিকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের নাম পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।




