আপেল-আঙ্গুর বিদেশি ফল । ডলার খরচ করে আমদানি করতে হয়,তাও সাধারন মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার আওতায় থাকে না। ফলে দেশের খুব কম মানুষই আঙ্গুর কিনে খায় । তাই দেশেই
আঙ্গুর চাষ এক সময় শুধুই কল্পনা ছিল,কিন্তু আজ তা বাস্তবতায় পরিণত হয়েচে দেশের চুয়াডাঙ্গা জেলায়। আমদানী নির্ভর ফল আঙ্গুর চাষে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন এই জেলার জীবননগরের কৃষক রুহুল আমিন রিটন। দেশের প্রথম সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক আঙ্গুর বাগানে ঝুলে আছে লাল, সবুজ আর কালো রঙের বীজবিহীন বা সিডলেস আঙ্গুর। প্রতিদিন এ আঙ্গুর বাগান দেখতে ভিড় করছে শত শত মানুষ। কৃষি বিভাগ বলছে, আঙ্গুর চাষে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সহযোগিতা পেলে এই সাফল্য দেশের ফল উৎপাদনে নতুন দিগনত্ম উন্মোচন করবে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পেয়ারাতলায় মাঠজুড়ে সবুজ লতা, আর তার নিচেই থোকায় থোকায় দুলছে রঙিন স্বপ্ন। লাল, কালো, সবুজ আর বেগুনির বাহারি সব রঙের আঙ্গুর।
রুহুল আমিন রিটন একজন স্বপ্নবাজ কৃষক, যিনি ২০১৪ সালে পেয়ারা ও লেবু চাষের মাধ্যমে কৃষিখামারের কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে সময়ের সাথে নিজেকে বদলে নিয়েছেন, যুক্ত করেছেন নতুন নতুন ফলের চাষ। ড্রাগন ফল চাষে সফলতার পর ২০২৪ সালে স্ট্রবেরি চাষে পান আকাশচুম্বী সাফল্য। সেই স্বীকৃতি হিসেবে একই বছর তিনি কৃষিতে এআইপি (এগ্রিকালচারালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন) নির্বাচিত হন।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি রিটন। স্বীকৃতির পর থেকেই তার সামনে আসে নতুন এক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের মাটিতে মিষ্টি ও বীজবিহীন আঙ্গুরর ফলানো। আবহাওয়া, মাটি ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি শুরম্ন করেন গবেষণা ও পরীক্ষামূলক চাষ। দেশীয় জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর নিয়ে কাজ করছেন তিনি। রিটনের লক্ষ্য শুধু নিজের সাফল্য নয়, বরং প্রমাণ করা সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে বাংলাদেশের মাটিতেও বিশ্বমানের ফল উৎপাদন সম্ভব।
শুরম্নতে অনেকেই নিরম্নৎসাহিত করেছিলেন আঙ্গুর চাষে, বলেছিলেন এ মাটিতে আঙ্গুর হবে না। কিন’ হাল ছাড়েনি কৃষক রম্নহুল আমিন। ২০২৩ সালে ভারত, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়া থেকে উন্নত জাতের হরেক রকমের চারা সংগ্রহ করে ১২ বিঘা জমিতে ৪ হাজার চারা রোপণ করে। আজ সেই বাগানেই ঝুলছে নানা রকমের বিশ্বমানের সিডলেস আঙ্গুর।
তবে সাফল্যের পথ পুরোপুরি মসৃণ নয়। প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ও বিশেষ উপকরণের দুম্প্রাপ্যতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে দেশে কিছু জাতের আঙ্গুর চাষ হলেও তা বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি। তবে রিটনের সিডলেস আঙ্গুর নিয়ে আশাবাদী স্থানীয় কৃষি বিভাগ । সরকারের সহযোগিতা, বিশেষ করে আমদানি করা বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ ঔষধসহ বিভিন্ন উপকরন প্রাপ্তিতে সরকারের সাহায্য দরকার বলে মনে করেন কৃষিবিভাগের বিশেষজ্ঞগন।



