Spread the love

 

“গ্রাম দেখো তো কলম, বিল দেখ তো চলন” এই প্রবাদটি নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, তিন জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা  বিল চলনের ঐতিহ্য আর সৌন্দযের উপমা।কিন্তু ক্রমেই হারিয়ে যাচ্চে ,কারন মাছের জন্য বিখ্যাত বিলটির নামডাক কমে যাচ্ছে কারন কমে যাচ্ছে বড় মাছের সরবরাহ, আর তার কারন রুই,বোয়াল,চিতল বা কাতল মাছের পোনা আটকা পড়ছে অভিশপ্ত “ চায়না দুয়ারি জালে” ।

দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি চলনবিল একসময় শস্য ও মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও এই বিল আজ নানা কারণে হারাতে বসেছে তার স্বকীয়তা। বিলের পাশের মানুষ, জেলরা আর প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের  আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলনবিল হারাবে তার ঐতিহ্যগত গৌরব। আর মিলবে না বিলের সেইসব সুস্বাদু মাছ ।

নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি আর শুষ্ক মৌসুমে সোনালি ফসল—প্রকৃতির এক অপূর্ব রূপ সৌন্দর্য মন্ডিত চলনবিলের আয়তন ৮০০ বর্গমাইল বা প্রায় ২০৭২ বর্গকিলোমিটার।  এই বিল হাজারো মানুষের জীবিকা ও খাদ্যের অন্যতম উৎস। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা কারণে সংকুচিত হচ্ছে বিলের জীববৈচিত্র্য। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার সচেতন মানুষ ও পরিবেশবিদদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

স্থানীয় সচেতন মানুষরা উদ্বিগ্ন তাদের এলাকার সুনাম চলনবিলের ঐতিহ্যের হারিয়ে যাওয়ার আশংকায় । অনেকেই অভিযোগ করেছেন এক শ্রেনির ব্যবসায়ি যেমন চায়নার জাল এনে দুয়ারি জাল বানাচ্ছে,তেমনি কিছু জেলে সেই জাল দিয়ে ছোট মাছ ধরতে গিয়ে বড় মাছের পোনাকে মেরে ফেলছে । ফলে ছোট টেংরা,পুটি বা কই মাছ ধরা পড়ছেেএবং সেসব বেচে তারা লাভবান হচ্ছে কিন্তু পোনা মারা যাওয়ায় ধীরে ধীরে কমে যেতে বসেছে বড় রুই,বোয়াল বা চিতল মাছের মত ঐতিহ্যের মাছগুলো ।
পরিবেশ কর্মীর ছাইফুল ইসলামের অভিযোগ স্থানীয় একটি মাজারে আগত ভক্তরা চলনবিলে তাদের ব্যবহার সামগ্রি বিলের জলে  বিলের বিভিন্ন অংশে জমছে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য। এসব অপচনশীল বর্জ্য দূষিত করছে পানি, কমিয়ে দিচ্ছে মাটির উর্বরতা এবং হুমকির মুখে ফেলছে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল। উপজেলা প্রশাসন এসব ফেলবার জন্য ডাস্টবিন বানিয়ে দিলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে মাছ কমে ঐতিহ্য হারাচ্ছে চলনবিল । জানা গেছে চায়না দুয়ারি জালে আটক হয়ে বিভিন্ন সময় সাপসহ আরো অনেক জলজ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে ,তাই ক্ষতি হচ্ছে চলনবিরের জীববৈচিত্রের ।

অন্যদিকে বর্ষা শুরু হলেই বিলের বিভিন্ন এলাকায় পাতা হয় স্রোতি জাল, চায়নাদুয়ারি, বাদাই, ঘূর্ণি ও অন্যান্য ক্ষতিকর জাল। এসব জালে ধরা পড়ে ডিমওয়ালা মা মাছ, মাছের পোনা এবং উপকারী জলজ প্রাণী। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রজনন এবং দ্রুত কমে যাচ্ছে মাছের উৎপাদন।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওমর আলী বলছেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলনবিল শুধু একটি বিল নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের অন্যতম ভিত্তি। তাই প্লাস্টিক দূষণ রোধ, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী চলনবিল রক্ষা করার দাবি স্থানীয়দের।