Spread the love

ঢাকায় গত ৯ থেকে ১০ জানুয়ারী, ২০২৬ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র উদ্যোগে “পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়“ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে উদ্বোধনী এবং সমাপনী অধিবেশন ছাড়াও একাধিক কারিগরী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি অধিবেশন ছিল “কৃষি, মাটি ও খাদ্য দূষণ”। এই কারিগরী অধিবেশনে বিসেফ ফাউন্ডেশন এর সভাপতি ও কৃষি বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন “বাংলাদেশে পরিবেশ-সম্মত কৃষি চর্চা; পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সমাধান” শীর্ষক একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। গবেষক মহিদুল হক খান এই উপস্থাপনায় সহযোগী হিসেবে ছিলেন।

ড: মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, পরিবেশ ও টেকসই কৃষি আলাদা কোন বিষয় নয়, বরং পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ধান উৎপাদন প্রয়োজন কিন্তু ধান উৎপাদনে অতিরিক্ত পানির ব্যবহার পরিবেশকে কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত করছে সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। আমরা নির্বিচারভাবে তথা পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে কৃষি বা খাদ্য উৎপাদনের সাফল্যকে উৎসাহিত করতে পারি না। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে কৃষির গুরুত্বকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কৃষি মানুষের খাদ্য, পুষ্টি, গ্রামীণ জীবনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি এবং দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ এর সাথে যুক্ত। কৃষি আর পরিবেশ – অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। আমাদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই কৃষি অবশ্য প্রয়োজনীয়। আর তার জন্যে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত থাকা দরকার। কেননা, সবুজ বিপ্লবের ফলে খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও মাটির উর্বরতা, পানি ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । আমাদের অবিলম্বে এমন ব্যবস্থা দরকার যা মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষা করবে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়াকেও টেকসই করবে ।

ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন তার প্রেজেন্টশনে বলেন, “কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাকে টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব করতেই হবে। এর জন্য গবেষণায় জোর দিতে হবে। কৃষককে সঠিক উপায় ও উপকরণ সহায়তা দিতে হবে। সরকারকে অবিলম্বে ‘ডার্টি ডজন’ খ্যাত কীটনাশক, প্যারাকুএট ও গ্লাইফোসেট নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষতিকারক কীটনাশক এর আমদানী, উৎপাদন, বিপনন,ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব বালাইনাশক উদ্ভাবনে সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে বর্তমানে বাজারে থাকা ১১০টি জৈব বালাইনাশকের প্রাপ্যতা সহজ হয় এবং কৃষক সহজে তা ক্রয় ও প্রয়োগ করতে পারে।