
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় অনুষ্ঠিত বীজ মেলায় বিশেষজ্ঞরা দেশীয় বীজের জাত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
তাদের মতে, আধুনিক উচ্চফলনশীল জাতের ব্যাপক চাষাবাদের কারণে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় জাতগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে, স্থানীয় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সুরক্ষায় সংরক্ষণ উদ্যোগ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ক্রমশ বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় বীজের জাত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিস্তারের লক্ষ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলা মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী ‘গ্রামীণ বীজ মেলা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ ফেব্রুয়ারী।
জার্মানিভিত্তিক সংস্থা এমআইজেডআরইও’র সহযোগিতায় দুই বেসরকারি সংস্থা লোকজ এবং মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন যৌথভাবে মেলার আয়োজন করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধরনের বীজ বিনিময় আসন্ন মৌসুমে আবাদ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের আত্মনির্ভরশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলার স্টলে ১৭টি গ্রামের ৫০ জনের বেশি নারী কৃষক উপস্থিত ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা বিলুপ্তপ্রায় শতাধিক দেশীয় ধান, শাকসবজি, ডাল ও তেল বীজের জাত প্রদর্শন করেন।
স্টলগুলোতে মরিচশাইল, হিজলি, দিঘা, মোরগশাইল ও কালামানিকসহ বিভিন্ন দেশীয় ধানের জাত এবং ঐতিহ্যবাহী সবজির বীজ প্রদর্শিত হয়।
নারী কৃষকরা শুধু প্রদর্শনই করেননি, বরং নিজেদের মধ্যে বীজ বিনিময় করেছেন এবং দর্শনার্থীদের কাছে বিতরণ বা বিক্রি করেছেন।
বীজের সংখ্যা, বৈচিত্র্য, মান ও উপস্থাপনার ভিত্তিতে নির্বাচনী প্যানেল প্রথম পুরস্কার প্রদান করে বটিয়াঘাটা উপজেলার শুকদারা গ্রামের করুণা মণ্ডলকে, দ্বিতীয় পুরস্কার বিধবা নমিতা সরকারকে এবং তৃতীয় পুরস্কার হালিয়া গ্রামের শিউলি মণ্ডলকে। অংশগ্রহণকারী সব নারী কৃষককেই সম্মাননা দেওয়া হয়।
করুণা মণ্ডল বলেন, ‘আমি গত ১০ থেকে ১১ বছর ধরে বিরল দেশীয় বীজ, বিশেষ করে ধান সংরক্ষণ করছি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষকরা আমার কাছে ন্যায্য দামে বীজ সংগ্রহ করতে আসেন।’
লোকজ এর সমন্বয়ক পলাশ দাস বাসসকে বলেন, এ উদ্যোগ কৃষকদের, বিশেষ করে নারীদের, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে উৎসাহিত করছে।
দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং কয়েকশো কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
(বাসস)





