
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামে আবারও বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে। গতকাল রোববার বিকেলে একটি ধানক্ষেতে এসব ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। বাঘটি লোকালয়ের আশপাশে অবস্থান করছে কিনা, তা জানতে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে বন বিভাগ। গ্রামবাসীকে সতর্ক করতে চলছে মাইকিং।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামে রোববার সন্ধ্যায় জব্বার ডাক্তারের বাড়ির দিক থেকে একটি বাঘ ধানক্ষেতে নেমে যায়। পরে রাতে পার্শ্ববর্তী লতিফ মেম্বারের বাড়ির সামনের ধানক্ষেতে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান এলাকাবাসী। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের সদস্যরা বন বিভাগকে খবর দেন। এরপর থেকে গ্রামজুড়ে বাঘের সম্ভাব্য গতিবিধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
খবর পেয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ বনরক্ষীদের নিয়ে রোববার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা ধানক্ষেত ও আশপাশের এলাকায় বাঘের উপস্থিতি এবং চলাচলের চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করেন। সোমবার সকালেও বন বিভাগের সদস্যরা স্থানীয় কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ধানক্ষেত ও বাড়িঘরের আশপাশে তল্লাশি চালান। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এর মাত্র তিন দিন আগে একই গ্রামের পানিরঘাট এলাকায় ভোলা নদী পেরিয়ে একটি বাঘ লোকালয়ের দিকে চলে এসেছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই গ্রামে আবারও বাঘের উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবন-সংলগ্ন বসতবাড়ি ও কৃষিজমির আশপাশে বাঘের চলাচলের খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোনাতলা গ্রাম সুন্দরবনের কাছাকাছি হওয়ায় বন ও লোকালয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় বাঘের বিচরণ নিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে হচ্ছে। ধানক্ষেত, বাড়ির আঙিনা ও চলাচলের পথের আশপাশে বাঘের উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়ায় কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন করছেন বাসিন্দারা। তবে বাঘটি বর্তমানে ঠিক কোথায় রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামা প্রসাদ বলেন, ‘বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা মাঠে রয়েছি। বাঘটি যাতে স্বাভাবিকভাবে বনে ফিরে যেতে পারে, সে চেষ্টা চালাচ্ছি। এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাঘটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাঘের সঙ্গে যাতে মানুষের কোনো ধরনের সংঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কভাবে চলাফেরা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাঘের পায়ের ছাপ বা উপস্থিতির চিহ্ন দেখলে সেটির কাছে না যাওয়া, বাঘকে ঘিরে না ধরা কিংবা তাড়া না করা এবং দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বাঘটি যাতে কোনো ধরনের বাধা বা উস্কানি ছাড়াই নিরাপদে সুন্দরবনে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেছে বন বিভাগ।




