Spread the love

ক্ষেতে পাতে ডেস্ক

সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় অন্তত ৪৭ হেক্টর আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র চারা সংকট। বন্যার পানি নামার পর জমিতে চারা রোপণের ব্যস্ততা বাড়লেও হাটে গিয়ে উচ্চমূল্যে চারা কিনতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন স্থানীয় চাষিরা। নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে বাড়তি খরচে চারা কেনায় চলতি আমন মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

সাদুল্লাপুরের ঐতিহ্যবাহী চারার হাটে আসা গাইবান্ধা শহরতলির খানকাশরিফ এলাকার কিষানি মুক্তা বেগম আক্ষেপ করে জানান, এক বিঘা জমির জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকার শুধু চারা কিনেছেন। পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি, হাল-চাষ, সার-কীটনাশক ও আগাছা পরিষ্কারের অতিরিক্ত খরচ হিসাব করলে এবার লাভ দূরে থাক, আসল ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়বে।

একই সুর হাটে আসা অন্য কৃষকদের কণ্ঠেও। উপজেলার ধাপেরহাট থেকে আসা পাইকারি বিক্রেতা খয়বার হোসেন জানান, প্রতি মণ (৮০ মোটা) বৈলান চারা সর্বনিম্ন ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাটে জাতভেদে চারা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত। চারা বিক্রেতা হারুন মিয়ার মতে, বেশি ফলনশীল জাত যেমন গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা ফাইভ ও মামুন স্বর্ণার চাহিদা বেশি থাকায় এগুলোর দাম আরও চড়া। স্থানীয় ক্রেতা আব্দুর রহমান সরকার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ দামে চারা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সাদুল্লাপুর হাটের ইজারাদার আল-আমিন মিয়া জানান, বহুকালের পুরোনো এই হাটে দিনভর দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। কেনাবেচায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকরা যেন কোনো প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে হাট কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে।

সংকট কাটাতে কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের আসাদুল ইসলাম ও জয়েনপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানসহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দ্রুত সরকারি কৃষি প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, সরকারি সহায়তা না পেলে সাধারণ কৃষকের পক্ষে এই ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা বরাদ্দ আসেনি। আমন ধান কাটার পর বাজারে ধানের ন্যায্য ও উপযুক্ত মূল্য পেলে কৃষকদের এই প্রাথমিক লোকসান কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।