
অদক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ১১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। ফলে নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বৈষম্যমূলক ভাবে অতিরিক্ত বোঝা চেপে বসছে। আর সরবরাহ ব্যবস্থা ত্রুটি আর নিয়ন্ত্রণহীনতার কারনে সবচেয়ে ঝাল বাড়ে কাচাঁ মরিচের । বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণাপত্র উপস্থাপনকালে সিপিডির গবেষক ফকরুদ্দিন আল কবির জানান, উৎপাদক ও খুচরা বাজারের মধ্যে কাঁচা মরিচের দামের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যা ১১৬ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে মাঝারি মানের চাল– প্রায় ১০০ শতাংশ, পেঁয়াজ– ৮৭ শতাংশ, মসুর ডাল– ৭৮ শতাংশ, বেগুন– ৭২ শতাংশ ও আলু– ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে, যেসব পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল অপেক্ষাকৃত ছোট বা সংক্ষিপ্ত, সেগুলোর দামের ব্যবধান অনেক কম ছিল। যেমন—ডিমের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ২৫ শতাংশ, মুরগির মাংসে ২২ শতাংশ, গরুর মাংসে ১৩ শতাংশ এবং রুই মাছে ১০ শতাংশ।


আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিডির নির্বাহি পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে আটকে আছে এবং এটি অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করছে, কারণ তারা তাদের আয়ের একটি সিংহভাগ অংশই খাবারের পেছনে ব্যয় করে থাকেন। তিনি বলেন, খাদ্যপণ্যের দাম বিভিন্ন উপাদানের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন খরচ, বিপণনের অদক্ষতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের বাধা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সরবরাহের ঘাটতি, মজুতদারি এবং বাজারে দুর্বল প্রতিযোগিতা। তাই একক কোনো কারণ দিয়ে এই মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্ক করেন।

সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব পণ্য দীর্ঘ বিপণন শৃঙ্খলের মধ্য দিয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছায়, সেগুলোর দামের ব্যবধান সাধারণত বেশি হয়। এতে খাদ্য বণ্টন ব্যবস্থা সরলীকরণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঢাকা বিভাগের ১০টি বাজারের ৮২০ জন ব্যবসায়ীর ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল বিশ্লেষণ করা হয় এই গবেষণায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১০টি পণ্যের মধ্যে ৬টির ক্ষেত্রেই—যেমন পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ডিম ও রুই মাছ—খুচরা বিক্রেতারা মূলত শহরাঞ্চলের আড়তদারদের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল। এর ফলে বাজারে একক বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব তৈরি হচ্ছে, প্রতিযোগিতা কমছে এবং দামের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।





