
চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া এবং উর্বর মাটির কল্যাণে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলা হর্টিকালচার বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৮০ হাজার ৬৫০ টন কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিনাজপুর হর্টিকালচার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এজামুল হক জানান, এ বছর হঠাৎ করে আসা ঝড় ও বৃষ্টিতে আম এবং লিচুর কিছুটা ক্ষতি হলেও কাঁঠালের ফলনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, “দিনাজপুরের মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার জেলার ১০৩টি ইউনিয়ন ও ৯টি পৌরসভাতেই কাঁঠালের চমৎকার ফলন হয়েছে।”
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘোড়াঘাট উপজেলায় এ বছর ৫৭৬ হেক্টর জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় কাঁঠাল চাষ হয়েছে। এই একটি উপজেলা থেকেই ৮ হাজার ৪৫০ টন কাঁঠাল উৎপাদনের আশা করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান। বিরামপুর, নবাবগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাতেও প্রতিটি গাছের শাখা-প্রশাখায় প্রচুর পরিমাণ কাঁঠাল ঝুলতে দেখা গেছে।
বিরামপুর উপজেলার ঘাটপাড় ও বেপারিটোলা গ্রামের কৃষকরা জানান, এই অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। বাগান মালিক সাহেব আলী বলেন, “আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার গাছে অনেক বেশি কাঁঠাল এসেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফল পাকতে শুরু করবে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এবার বাজারেও ভালো পরিমাণে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।”
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি কাঁঠাল আহরণ করা সম্ভব হতে পারে। এতে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মিটবে, অন্যদিকে কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
দিনাজপুরের এই বিশাল উৎপাদন জেলার ফল ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





