
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তীব্র রূপ নিয়েছে। সোমবার (৪ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে বোরো ধান ও গবাদি পশু নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে নেত্রকোনায়। জেলার মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার এবং ভুগাই-কংস নদী জারিয়াঞ্জাইল পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। কলমাকান্দার সোমেশ্বরী নদীর পানি হু হু করে বাড়ায় ইতিমধ্যে উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পয়েন্টে নালজুর নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় এই পানি আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হবিগঞ্জের সুতাং নদী রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা এ অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেছে। খোয়াই ও মনু নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
পূর্বাভাস ও সতর্কতা
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে উজান থেকে আসা ঢলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যে পানিবন্দি মানুষদের সহায়তা এবং ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাওর অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।





