
ঢাকা | ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
দেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৭টি জেলায় বজ্রপাতে শিশু ও নারীসহ অন্তত ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে অনেক পরিবার। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও হাওর এলাকায় বজ্রপাত এখন এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার খতিয়ান
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির সময় এই বজ্রপাতের ঘটনাগুলো ঘটে। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন মাঠে কাজ করছিলেন এবং কয়েকজন শিশু ছিল। সিরাজগঞ্জ জেলায় ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে ২ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও এ ঘাস কাটার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন ২ জন। জামালপুর জেলার সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় ১ জন নারীসহ মোট ২ জন নিহত হয়েছেন। বগুড়া, নাটোর এবং পঞ্চগড়ে পৃথক পৃথক ঘটনায় আরও ৩ জন মারা গেছেন। পঞ্চগড়ে চা বাগানে কাজ করার সময় এক তরুণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে আরো অনেক মানুষ।
সরকারি ও বেসরকারি তথ্যমতে, বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২৬৬ জন এবং ২০২৪ সালে ২৪৩ জন বজ্রপাতে মারা যান। তবে ২০২৬ সালের শুরুতেই মৃত্যুর এই হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণেই বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন বাড়ছে এই দুর্যোগ?
আবহাওয়াবিদদের মতে, বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা এবং বৃক্ষশূন্যতা বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে ফাঁকা মাঠে বড় কোনো গাছ (যেমন তালগাছ বা সুপারি গাছ) না থাকায় বজ্র সরাসরি মানুষের ওপর পড়ছে। নিহতদের অধিকাংশই কৃষক, যারা খোলা মাঠে কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
বাঁচার উপায় ও সরকারি নির্দেশনা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বজ্রপাতকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। জীবন রক্ষায় বিশেষজ্ঞরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু তা সাধারণের কাছে পৌছাচ্ছে না।
সরকার পক্ষ থেকে দেশজুড়ে তালগাছ রোপণ এবং হাওর এলাকায় বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এর সুফল পেতে আরও সময়ের প্রয়োজন। সচেতনতাই এখন এই ‘আকাশী দুর্যোগ’ থেকে বাঁচার প্রধান অস্ত্র।





