
দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রসারে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালে রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এতে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। যেখানে দেশে বার্ষিক চাহিদা সাধারণত ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ মেট্রিক টন। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হলে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে।
ফলন ভালো হওয়ায় চলতি অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮১১ মেট্রিক টন। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ মাত্র ৮৬ হাজার ৩৯৮ মেট্রিক টন।

পেঁয়াজ পচন রোধে সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ৯০০টি আধুনিক সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘এয়ার-ফ্লো’ বা বায়ু প্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে ৮-৯ মাস পর্যন্ত তা ভালো থাকে। বর্তমানে উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫-৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়; এই আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে অপচয় রোধ করা গেলে বিদেশ থেকে আর এক কেজি পেঁয়াজও আমদানি করতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী।
ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার শতাংশ প্রতি ফলন অনেক বেশি হয়েছে। প্রতি শতাংশ জমিতে প্রায় সাড়ে তিন মণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় এবং উৎপাদন খরচ কম থাকায় কৃষকরা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা জানান, বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং দামও স্থিতিশীল। সরকারি তদারকি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রোগবালাই কম হওয়ায় এবার পেঁয়াজের গুণগত মানও বেশ ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে।
তবে কৃষকরা বলেছেন তারা খুব একটা লাভজনক মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষকদের লাভ বিশ্চিত করতে না পারলে সামনে তারা পিঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।




