
কৃষিমন্ত্র ও কৃষিসচিব যতই বলুক না কেন যে দেশে সারের কোনো সংকট নাই কিন্তু সার সরবরাহে যে কিছুটা হলেও কমতি আছে তার প্রমান হলো সরকার একই সঙ্গে তিন দেশ থেকে লক্ষাধিক টন সার কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেই বিএডিসি যে জরুরিভাবে সার কেনার তাগাদা দিয়ে কৃষিমন্ত্রনালয়ে চিঠি দিয়েছিল, ক্ষেতেপাতে সেই খবরও প্রকাশ করেছিল। উল্লেখ্য ১৯৯১-৯৬ সালের বিএনপি সরকারের সময়ে সার সংকটের আন্দোলনে কৃষক যে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিল,সেই ঘটনা মাথায় রেখে বর্তমান সরকারও সারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেছে।

গতকাল বুধবার (১৯আগস্ট) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে এক লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে । এর মধ্যে কানাডা ও রাশিয়া থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এসব সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৫৬৪ কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৮৭ টাকা।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সার কেনার তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে অনুমোদিত প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানি করবে। এতে ব্যয় হবে ১৮৭ কোটি ২২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪০ টাকা। কৃষি ভর্তুকির বাজেট থেকে এ অর্থ পরিশোধ করা হবে। চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় প্রতি মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সারের দাম পড়েছে ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে এ লটের সারের মূল্য ১ কোটি ৫১ লাখ ৫ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার।

দেশিয় কারখানায় সার উৎপাদন কমে গেছে গ্যাস সরবরাহ সংকটে । সেজন্য অন্য অনেক কারনের পাশাপাশি সারের জন্য দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিও অনুমোদন পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইউরিয়া সার সরবরাহ চুক্তির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ইউরিয়া সার আমদানি সংক্রান্ত চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় ব্যবস্থার আওতায় এ চুক্তি সম্পাদিত হবে।
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা প্রকল্পের জন্যও একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এর আওতায় প্রকল্পটির সাধারণ ঠিকাদার জাপানের এমএইচআইয়ের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে, যাতে কারখানাটির দৈনন্দিন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা পাওয়া যায়। এ জন্য টেকনিক্যাল সার্ভিস (দ্বিতীয় ধাপ) চুক্তির আওতায় একক উৎস নির্বাচন পদ্ধতিতে পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল জাতীয় স্বার্থে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন। কমিটির সিদ্ধান্তগুলো সার ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন কমিটির একজন মন্ত্রি পর্যায়ের সদস্য।




