
১৩ লাখের বেশি কৃষকের ১০ হাজার টাকা পযর্ন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকারের অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগ । ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের টাকা পাবে ১৫টি ব্যাংক। এর মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক আটটি। তবে সবার আগে একটি নীরিক্ষা করবে অর্থ বিভাগ ।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি বাংলাদেশ ব্যাংক এখন একটি ছক তৈরি করে দেবে, সেই ছকের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো যার যার তথ্য অর্থ বিভাগে পাঠাবে। তার আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনারোপিত সুদ হিসাব করে ব্যাংকগুলো তাদের নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তের অনুমোদন নেবে। এসব হিসাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন করে আর কোনো সুদ আরোপ করা যাবে না এবং ব্যাংকগুলোর খতিয়ান (লেজার) থেকে তা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করতে হবে। ঋণ–সংশ্লিষ্ট মামলা থাকলে স্ট্যাম্প মাশুলসহ অন্যান্য খরচ সরকার বহন করবে, তবে আইনজীবীর খরচ বহন করবে না।
অর্থ বিভাগ বলেছে, অনিশ্চিত হিসাবে থাকা সুদ ও আসলের দায় গ্রহণের সুযোগ সরকারের নেই। বিষয়টি সরকার ও ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ মওকুফের যে তথ্য দেবে, তা আবার নিরীক্ষা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিরীক্ষিত চূড়ান্ত হিসাব পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঠাবে সরকারের কাছে। সরকার পরে নিরীক্ষিত অংশের দায় পরিশোধ করবে ব্যাংকগুলোকে। দায় পরিশোধের পর মামলা প্রত্যাহার করে নেবে ব্যাংক এবং প্রতি মাসে মামলা প্রত্যাহারের তথ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করবে ব্যাংকগুলো।
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের টাকা পাবে ১৫টি ব্যাংক। এর মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক আটটি। এগুলো হচ্ছে কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব, সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে সাতটি। এগুলো হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মোট ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৮ জন কৃষক এ ঋণ মওকুফের সুবিধা পাবেন। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা।
সুত্র> প্রথম আলো




