Spread the love

শহুরে রেস্তোরাঁগুলোর চাকচিক্য যখন মানুষকে হাতছানি দিচ্ছে, তখন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর হাটে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। টিনের চাল আর সাধারণ কাঠের বেঞ্চের একটি হোটেলকে ঘিরে ভোজনরসিকদের অন্তহীন ব্যস্ততা। স্থানীয়দের কাছে এটি কেবল একটি খাবারের দোকান নয়, বরং একটি ভরসার নাম— ‘গোলামের হোটেল’।

তাজা মাছের স্বর্গরাজ্য

এই হোটেলের প্রধান আকর্ষণ যমুনা নদীর টাটকা মাছ। প্রতিদিন ভোরে জেলেরা নদী থেকে যে মাছ ধরেন, তার একটি বড় অংশ চলে আসে গোলামের রান্নাঘরে। বোয়াল, আইড়, রিঠা, বাঘাইড় থেকে শুরু করে যমুনার রুপালি ইলিশ কিংবা ছোট চ্যাপা ও কাজলি মাছের ঝোল— সবকিছুরই দেখা মেলে এখানে। কোনো হিমায়িত মাছ নয়, বরং সরাসরি নদী থেকে পাতে আসা মাছের স্বাদই এই হোটেলকে অনন্য করে তুলেছে।

মাটির চুলার ঘ্রাণ ও ঘরোয়া মশল

গোলামের হোটেলের রান্নায় আধুনিক ব্লেন্ডার বা প্যাকেটজাত মশলার চেয়ে শিল-পাটায় বাটা মশলা এবং মাটির চুলার আঁচকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিশেষ করে এখানকার গরুর মাংস ভুনা এবং হাঁসের মাংসের কারি ভোজনরসিকদের মুখে লেগে থাকার মতো। সাথে হরেক পদের ভর্তা তো আছেই। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সাথে সরিষার তেল দিয়ে মাখানো ভর্তা আর নদীর মাছের ঝোল— এই কম্বিনেশনের টানেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন।

খরিদ্দার যখন অতিথি

হোটেলটির মালিক গোলাম হোসেন (যিনি এলাকায় গোলাম ভাই নামেই পরিচিত) নিজেই তদারকি করেন সবকিছু। আগত ক্রেতাদের সাথে তার অমায়িক ব্যবহার এবং “পেট ভরে খাওয়া”র তৃপ্তি নিশ্চিত করার প্রবণতা হোটেলটিকে একটি পারিবারিক আবহে রূপ দিয়েছে। এখানে খেতে আসা খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, “বাড়ির বাইরে থাকলেও গোলামের হোটেলের রান্নায় সেই মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ খুঁজে পাই।”

সাধ্যের মধ্যে তৃপ্তি

বিলাসবহুল রেস্তোরাঁগুলোতে যেখানে খাবারের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে, সেখানে গোলামের হোটেল তার মান ধরে রেখেও দাম রেখেছে সাশ্রয়ী। রিকশাচালক থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী— সবাই একই কাতারে বসে এখানে আহার সারেন।

এনায়েতপুরের তাঁত শিল্পের সমৃদ্ধির পাশাপাশি ‘গোলামের হোটেল’ 
এই অঞ্চলের খাদ্যাভ্যাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনি যদি যমুনা পাড়ে ঘুরতে যান এবং খাঁটি দেশি খাবারের স্বাদ নিতে চান,
তবে এই সাদামাটা হোটেলটি আপনাকে হতাশ করবে না।