Spread the love

রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে । আর সেকারনে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরে কৃষিপণ্যবাহী জাহাজ, বন্দর ও বাণিজ্যপথে সাম্প্রতিক হামলার কারণে দুই দেশের শস্য রফতানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এতে গমসহ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যের আন্তর্জাতিক সরবরাহ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক দেশে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

এতে গমসহ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যের আন্তর্জাতিক সরবরাহ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক দেশে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।ইউক্রেনের সেনাবাহিনী প্রায় ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধরেখা ধরে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে রাশিয়ার কৃষিপণ্যবাহী জাহাজ, কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরের বন্দর এবং রেল অবকাঠামো। গত সপ্তাহে রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্কের তিনটি শস্য টার্মিনালে হামলা চালায় ইউক্রেন। এসব টার্মিনালের মাধ্যমে রাশিয়ার মোট শস্য রফতানির ৪০ শতাংশের বেশি পরিবহন করা হয়। হামলার পর মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্দরটির শস্য রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলোয়ও রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। দেশটির সবচেয়ে বড় বন্দর ওডেসার দিকে যাওয়া কয়েকটি জাহাজও রুশ হামলায় ডুবে গেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শস্য সরবরাহপথ কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্ব খাদ্যশস্যের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ দুই সরবরাহকারী। দুই দেশ মিলে বিশ্বের মোট গম রফতানির প্রায় ২৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এ গমের বড় অংশ কৃষ্ণ সাগর হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেনের গমের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। এছাড়া দুই দেশই ভুট্টা, সূর্যমূখীর বীজ, তেল ও খৈল, বার্লি (যব), সরিষার বীজ, সয়াবিন ও তেল, সারসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ তেল ও খাদ্যপণ্য বিশ্ববাজারে রফতানি করে।

এরই মধ্যে বৈশ্বিক গমের বাজার চাপের মধ্যে রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় তাপপ্রবাহও গম উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে ২০২৫ সালের তুলনায় গমের দাম এরই মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত কারণে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। এর সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য সরবরাহ কমে গেলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে নিরাপদে শস্য পরিবহনের ব্যবস্থা আবার চালু করা সম্ভব বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দুই দেশ কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য নিরাপদে পরিবহনের একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল। পরে অবশ্য সে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলেও শস্য সরবরাহের পথ নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। এতে যুদ্ধের গতিপথ বদলাবে না, তবে লাখো মানুষকে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।