
দেশের কৃষিখাতের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম সিডের কর্ণধার মোহম্মদ মাসুম বলেন বলেছেন কৃষিখাতে বেশি অবদান রাখলেও জাতীয় বাজেটে বেসরকারি খাতের কোনো স্বীকৃতি নাই। দাম কমে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার ক্ষতিপূরনের জন্য আলাদা আলাদা তহবিল গঠনেরও প্রস্তাব দেন এই প্রবীণ কৃষি ব্যবসায়ি । নিরাপদ খাদ্য ও নিরাপদ কৃষি বিষয়ক নিউজ পোর্টাল “ ক্ষেতে-পাতে “ এর উদ্যোগে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন মোহমাসদ মাসুম ।

, “২৪২ পৃষ্ঠার এই বিশাল বাজেটে বেসরকারি খাতের (প্রাইভেট সেক্টর) হাত ধরে আমাদের কৃষির যে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই।” বলে উল্লেখ করেন মোহম্মদ মাসুম। তিনি বলেন বাজেটে আর্থিক বরাদ্দের অঙ্ক বড় হলেও, সেই টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ হবে, তার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।

মোহম্মদ মাসুম বলেন “ আমাদের চাষিরা সারা বছর মূলত দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন— প্রথমত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে, আর দ্বিতীয়ত সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারার ফলে। বিশেষ করে আলু চাষিরা যেভাবে দিনের পর দিন লোকসান গুনছেন, তা নিয়ে কেউ ভাবছে না। হাওরের চাষিরা হয়তো কিছুটা সরকারি সহায়তা পেয়েছেন, কিন্তু সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাই এখন থেকেই চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে “

তিনি বলেন আমাদের ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’র মতো চমৎকার ভাবনা আছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমরা কী গাছ লাগাচ্ছি, তা ভাবা দরকার। উপকূলীয় (কোস্টাল) এলাকায় একসময় প্রচুর নারকেল গাছ ছিল। মাঝে ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা থেকে খাটো জাতের নারকেলের চারা এনে বিতরণ করা হয়েছে, যা আশানুরূপ ফল দেয়নি। অথচ উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় প্রয়োজন আমাদের দেশীয় লম্বা জাতের নারকেল গাছ। পাশাপাশি সেখানে প্রচুর সুপারি গাছ লাগানো যেতে পারে।
প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ শিল্পের উল্লেখ করে সুপ্রিম সিডের স্বত্তাধিকারি মোহম্মদ মাসুম বলেন আমরা এখনো বিপুল পরিমাণ গুঁড়ো দুধ আমদানি করি । অথচ সঠিক নীতি ও সহযোগিতা পেলে এই খাতেই বাংলাদেশ সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলকে ‘বীজ হাব’ (Seed Hub) হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। উত্তরাঞ্চলে যদি ব্যাপকভাবে বীজ উৎপাদন করা যায় এবং সেখানে কর অব্যাহতি (ট্যাক্স হলিডে) দেওয়া হয়, তবে দেশের কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। সেই সঙ্গে ফসলভিত্তিক কৃষিবিমা বা ক্ষতিপূরণ চালু করা এবং কৃষি গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন তিনি। দেশের কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে বেসরকারি খাতের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করার দাবিও জানান মোহম্মদ মাসুম ।





